
শিবালয়ে ইউএনও, মনিষা রানী কর্মকারের উদ্যোগে কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন সচেতনতায় বিশেষ কাউন্সেলিং
মোমিন শেখ:
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় কিশোরী শিক্ষার্থীদের বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে উপজেলার সকল মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের নিয়ে কাউন্সেলিং ও সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হচ্ছে।
বুধবার উপজেলার উথলি আবদুল গনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় কিশোরী শিক্ষার্থীদের বয়ঃসন্ধিকালীন বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সচেতনতা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হয়।
এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন: শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), মনিষা রানী কর্মকার।
এসময় উপস্থিত ছিলেন: উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, ডাঃ ইসমত জাহান ভূঁইয়া,
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, মোঃ শহিদুল ইসলাম খাঁন এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মীরা সহ অন্যান্যরা।
এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), মনিষা রানী কর্মকার বলেন, বয়ঃসন্ধিকাল কিশোরীদের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। এ সময়ে শারীরিক ও মানসিক নানা পরিবর্তনের কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন ধরনের সংকোচ ও সমস্যার মুখোমুখি হয়। তাদের এসব পরিবর্তন সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেই এ বিশেষ কাউন্সেলিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। আমরা চাই, প্রতিটি কিশোরী যেন নিজের শরীর ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হয় এবং কোনো ধরনের সংকোচ ছাড়াই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, উথলি আবদুল গনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে শিবালয় উপজেলার সকল মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের নিয়ে এ ধরনের সচেতনতামূলক সভা ও কাউন্সেলিং কার্যক্রম চলমান থাকবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো, মাসিক স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।