
মো. শারীদ মোল্লা, নয়া কণ্ঠ ডেস্কঃ
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় একাধিক বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ভুল, নিম্নমানের কাগজে মুদ্রণ এবং অতিরিক্ত পরীক্ষার ফি আদায়ের অভিযোগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৩২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবছরের মতো এবারও একটি বিশেষ মহল গাইডভিত্তিক প্রশ্নপত্র প্রণয়নের মাধ্যমে বাণিজ্যিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অষ্টম শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), ইংরেজি এবং নবম-দশম শ্রেণির গণিতসহ কয়েকটি বিষয়ের প্রশ্নপত্রে একাধিক ভুল থাকা সত্ত্বেও সেই প্রশ্নেই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিম্নমানের কাগজে প্রশ্নপত্র মুদ্রণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, প্রশ্নপত্রে ভুল থাকার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে। এতে পরীক্ষার ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে এমন দায়িত্বহীন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পারমিস সুলতানা বলেন, “প্রশ্নপত্র প্রণয়নের দায়িত্ব শিক্ষক সমিতির। এ বিষয়ে আমার কোনো দায়িত্ব নেই। আপনারা শিক্ষক সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আমাকে বিষয়টি আগে জানানো হয়নি।”
অন্যদিকে, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও রামদিয়া বিএমবিসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলিমুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, “কয়েকটি প্রশ্নপত্রে ভুল হয়েছে। এটি প্রিন্টিংজনিত ত্রুটি।” তবে ভুল প্রশ্নপত্র দিয়েই কেন পরীক্ষা নেওয়া হলো—এ বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এদিকে চলতি অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় উপজেলার ৩২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত পরীক্ষার ফি আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। অনেক অভিভাবকের দাবি, অতিরিক্ত এই ফি পরিশোধ করতে গিয়ে তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহল প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ ও পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।