
ইউএনও, মনিষা রানী কর্মকার পেলেন সম্মাননা
জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে মানিকগঞ্জে শ্রেষ্ঠ শিবালয়
মোমিন শেখ:
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে মানিকগঞ্জ জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে শিবালয় উপজেলা। একই সঙ্গে জেলার ৬৫ টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে শিবালয় উপজেলার আরুয়া ইউনিয়ন পরিষদ। গত জানুয়ারি ২০২৬ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত ছয় মাসের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমের মূল্যায়নে এ সাফল্য অর্জন করে উপজেলা ও ইউনিয়নটি।
এ অর্জনে শিবালয়বাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, দায়িত্বশীলতা এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় এ সাফল্য এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, মানিকগঞ্জ জেলার জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন টাস্কফোর্স কমিটির সভায় জানুয়ারি ২০২৬ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত ছয় মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করা হয়। এতে জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে শিবালয় উপজেলা প্রথম স্থান অর্জন করে।
পাশাপাশি জেলার ৬৬টি ইউনিয়নের মধ্যে আরুয়া ইউনিয়ন পরিষদও প্রথম স্থান অর্জন করে।
শুধু জেলাতেই নয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে ঢাকা বিভাগেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে শিবালয় উপজেলা। গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা বিভাগের ৮৯ টি উপজেলার মধ্যে শিবালয় উপজেলা পরপর দুই মাস প্রথম স্থান অর্জন করে। এছাড়া জুন মাসের মূল্যায়নেও ঢাকা বিভাগের মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে উপজেলা।
এ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক, নাজমুন আরা সুলতানা এর কাছ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট গ্রহণ করেন: শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মনিষা রানী কর্মকার, আরুয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম, ইউপি সদস্য শেখ খালেক এবং গ্রাম পুলিশ নিমাই সরকার।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন টাস্কফোর্স কমিটির সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, সহজ ও জনবান্ধব করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিকভাবে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এদিকে শিবালয় উপজেলার এ অর্জনে স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা। একজন নাগরিকের জাতীয় পরিচয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একইভাবে মৃত্যুর সঠিক নিবন্ধনও সরকারি তথ্যভান্ডারকে নির্ভুল ও হালনাগাদ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে এ কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আনতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), মনিষা রানী কর্মকার বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে মানিকগঞ্জ জেলার মধ্যে শিবালয় উপজেলা প্রথম স্থান অর্জন করায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। একই সঙ্গে ঢাকা বিভাগের ৮৯টি উপজেলার মধ্যে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে পরপর দুইবার প্রথম এবং জুন মাসে তৃতীয় স্থান অর্জন আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। এ অর্জন শুধু উপজেলা প্রশাসনের একার নয়; শিবালয়ের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফল। ভবিষ্যতেও জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম আরও সুষ্ঠু, দ্রুত ও জনবান্ধব করতে আমরা কাজ করে যাব।
তিনি আরও বলেন, শিবালয় উপজেলার এ সাফল্য ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আমরা এ কার্যক্রমে আরও ভালো করতে পারব বলে আশা করছি।
উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি শিবালয়বাসীর সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে এ সাফল্য ভবিষ্যতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।