1. [email protected] : dailynayakontho :
  2. [email protected] : nayakantho3941 :
  3. [email protected] : nayakontho :
  4. [email protected] : unikbd :
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
রাজশাহী সিটি প্রশাসকের মর্যাদা নির্ধারণে সরকারের প্রজ্ঞাপন জারি দুপচাঁচিয়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২ লাখ ২২ হাজার টাকার জাল নোটসহ গ্রেপ্তার ১ ফরিদপুরে রাস্তার পাশের ঝোপ থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার, মিলছে না পরিচয়। রায়পুরা থানা বার্ষিক পরিদর্শন করলেন নরসিংদীর পুলিশ সুপার রাজশাহী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৬৪ পিস ভারতীয় ট্যাপেনট্রাডল ট্যাবলেট জব্দ রাজশাহীতে উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন পদ্মার টি-বাঁধে সরকারি জমি দখলমুক্তে উচ্ছেদ অভিযান রাসিকের চিকিৎসা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শনে বারিন্দ মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় জয়পুরহাটে তৃতীয় লিঙ্গের ২০ জনের হাতে গাভী তুলে দিল জেলা পরিষদ চারঘাটে শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার, ৬ ঘণ্টার মধ্যেই র‍্যাব-৫-এর অভিযান

নীলফামারীতে ১৫ বছর ধরে একই বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা, গড়েছেন দুর্নীতির পাহাড়।

  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬
  • ১৭ বার পঠিত

 

মোঃ সবুজ মিয়া,স্টাফ রিপোর্টার:

প্রায় দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে একই বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের বাহাগিলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহজুবা উম্মে লাবনী। সেখানের দায়িত্বরত সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আঁতাত করে নিজস্ব প্রভাববলয় গড়ে তোলা, প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে তার নিজের নিয়ম অনুযায়ী চলে সবকিছু। তার অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো সহকারী শিক্ষক প্রতিবাদ করলে উল্টো পড়তে হয় শিক্ষা কর্মকর্তার চাপের মুখে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন একই বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকার সুযোগে ওই শিক্ষিকা বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে একক প্রভাব বিস্তার করছেন। বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়েও তার মতামতই প্রাধান্য পাচ্ছে। তিনি নিজের খেয়াল খুশী মতো বিদ্যালয়ে আসেন। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সরঞ্জাম নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ব্যবহার করেন। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আঁতাত করে চলাই তার বিরুদ্ধে স্থানীয়রা একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে প্রধান শিক্ষক হিসেবে বাহাগিলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন মাহজুবা উম্মে লাবনী। তিনি যোগদান করার পর থেকে নিজের খেয়াল খুশী মতো পরিচালনা করছেন বিদ্যালয়। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দ আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, তিনি যোগদান করার পর থেকে কোনো সরকারি মেরামত বরাদ্দে ঠিকমতো কাজ করা হয়নি। বিদ্যালয়ের মেরামতের জন্য বরাদ্দ আসলেও ভাঙাচুরা রুম, নেই শিক্ষার্থীদের ঠিকমতো ক্লাস করার জায়গা। একই ক্লাসে পাঠদান করছেন তিনটি শ্রেণির শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়টি নির্বাচন কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে নির্বাচনকালীন মেরামত করার জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে প্রধান শিক্ষিকা বিদ্যালয়ের ভবন মেরামত না করে নামমাত্র বিদ্যালয়ের মাঠে একটি ছোট টিনের ঘর তৈরী করে বরাদ্দের অধিকাংশ টাকা আত্মসাৎ করেন।

আরও জানা যায়, প্রতি বছর বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামত, বৃহৎ মেরামত, স্লিপ ফান্ড ও প্রাক-প্রাথমিক সরঞ্জাম ক্রয়সহ বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দের অর্থে অনিয়ম করেন তিনি। চলতি বছর বৃহৎ মেরামত করার জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও কোনো কাজ না করেই আত্মসাৎ করেন তিনি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান পরিচালনার জন্য নির্দেশনা রয়েছে। তবে সেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কখনো ডিজিটাল ক্লাস করার সুযোগ দেয়নি প্রধান শিক্ষিকা। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া স্কুল ফিডিং এর খাবার শিক্ষার্থীদের ব্যাগে করে গোপনে প্রধান শিক্ষিকার আত্মীয় স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা কামরুজ্জামান সবুজ বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা এখানে যোগদান করার পর থেকে নিজের খেয়াল খুশী মতো এটি চালাচ্ছে। মাহজুবা উম্মে লাবনীর নেতৃত্বে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না। বিদ্যালয়ের কোনো ধরনের উন্নতি হয়নি, তিনি সবকিছু আত্মসাৎ করেন উল্টো স্থানীয়রা কেউ প্রতিবাদ করলে তিনি আবার তাকে মামলার ভয় দেখান। এছাড়া শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা অফিসার ফিরোজুল আলমের সঙ্গে সে আঁতাত করে চলে। তার বিরুদ্ধে আমরা স্থানীয়রা পনেরো বছরে প্রায় ২০ টি অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ করেছি সহকারী শিক্ষা অফিসারদের সহায়তায় তিনি রক্ষা পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অনেক তদন্ত হয় প্রতিবেদন দাখিল হয় সবকিছু হয় কিন্তু কোন অদৃশ্য শক্তিবলয় তিনি এখনো এই বিদ্যালয়ে দায়িত্বে রয়েছে। আমরা চাই এমন দূর্নীতিবাজ শিক্ষক যেন এখানে না থাকে।

আরেক বাসিন্দা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, প্রধান শিক্ষিকা এখানে আসার পর থেকে বিদ্যালয়ে আর পড়ালেখার কোনো পরিবেশ নাই। আমরা চাই ওই শিক্ষিকা এ বিদ্যালয় থেকে সরে যাক, তিনি এখানে অনিয়ম দুর্নীতির বাড়ি বানিয়েছেন। স্থানীয়রা তার বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা পাচ্ছি না।

দুলাল মিয়া বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মান উন্নয়নে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়না, আমরা দেখি শুধু সহকারী শিক্ষকরা ক্লাস নেয় কখনো দেখিনি প্রধান শিক্ষক ক্লাসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছে, তিনি শিক্ষার্থীদের তার রুমে ডেকে এনে পায়ের কাছে বসিয়ে মাঝেমধ্যে ক্লাস নেন। তবে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে গিয়ে ক্লাস না করিয়ে অফিসে ডেকে এনে ক্লাস করান।

নিরাপত্তার জন্য শিক্ষার্থীর নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না (ছদ্মনাম রহিম) বলেন, আমি চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি, যেদিন থেকে বিদ্যালয়ে খাবার আসা শুরু হয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আমার ব্যাগে খাবার দিয়ে তার আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিতেন। পরে আমার ব্যাগে খাবারের গন্ধ ছড়ায় বিষয়টি আমার মা বুঝতে পেরে আমাকে নিষেধ করেন।

এসব অভিযোগে বিষয়ে বাহাগিলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহজুবা উম্মে লাবনী বলেন, আমার বিদ্যালয়ে বরাদ্দের তালিকায় থাকলেও বরাদ্দ পাইনি, কেন পাইনি প্রশ্নে কোনো উত্তর দেয়নি তিনি। এছাড়াও এসব অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তার বিরুদ্ধে মিথ্যে বলে দাবি করেন।

এবিষয়ে নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা সব তদন্ত সম্পূর্ণ করে বিভাগে পাঠিয়েছি, এখন বিভাগীয় কর্মকর্তা ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD