
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন রাজশাহী ব্যুরোঃ
রাজশাহীতে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দুই সাংবাদিকের ওপর নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন জেলার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা। হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে ‘রাজশাহীর সাংবাদিক সমাজ’-এর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের শতাধিক সাংবাদিক অংশ নিয়ে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
হামলার শিকার দুই সাংবাদিক হলেন দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি ইব্রাহিম হোসেন সম্রাট এবং ক্যামেরাপার্সন আবির। বক্তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর এমন নৃশংস হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। তারা অভিযোগ করেন, হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত হীরা ও হেলালসহ জড়িত ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও এখনো তাদের গ্রেফতার করা হয়নি, যা উদ্বেগজনক।
বক্তারা অবিলম্বে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা প্রশাসনকে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার ও বিচার প্রক্রিয়া দৃশ্যমান না হলে রাজশাহীর সর্বস্তরের সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল আওয়াল, সহ-সভাপতি মঈন উদ্দিন, রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, রাজশাহী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আব্দুল মুগনি নীরো, সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মোস্তফা জামান এবং সহ-সভাপতি মাসুদ রানা রাব্বানীসহ সাংবাদিক নেতারা।
এ ছাড়া রিভার সিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ রাজশাহীতে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, গত রোববার (২ আগস্ট) রাজশাহীর শাহমখদুম থানা এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন সাংবাদিক ইব্রাহিম হোসেন সম্রাট ও ক্যামেরাপার্সন আবির। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাদের গুরুতর আহত করলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী হীরা ও হেলালকে আসামি করে শাহমখদুম থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।