
শেখ সোহেল রানা টিপুর নির্দেশনায় আগস্টের প্রথম প্রহরে রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে শোক ব্যানার ও
শোক কর্মসূচি পালন
স্টাফ রিপোর্টার:
আগস্টের প্রথম প্রহরে ১৫ আগস্টের শোক দিবস উপলক্ষে রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে শোক ও শ্রদ্ধাঞ্জলির ব্যানার টানানো হয়েছে।
রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, শেখ সোহেল রানা টিপুর নির্দেশনায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এসব ব্যানার টানান বলে জানা গেছে।
শুক্রবার দিবাগত রাত আগস্ট মাসের প্রথম প্রহরে রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত নেতাকর্মীদের অনেকেই কালো ব্যাজ ধারণ করেন।
জানা গেছে, আগস্টের প্রথম প্রহরে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে ১৫ আগস্টের শোক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন ব্যানার টানানো হয়। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের বিষয়টি তুলে ধরে শ্রদ্ধাঞ্জলির ব্যানারও টানানো হয়। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের আবহ বিরাজ করতে দেখা যায়।
তবে শনিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, রাতে টানানো শোক ও শ্রদ্ধাঞ্জলির ব্যানারগুলো খুলে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।
রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, শেখ সোহেল রানা টিপুর নির্দেশনায় আগস্টের প্রথম প্রহরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা জানান। কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি থাকলেও পরে সকালে ব্যানারগুলো সরিয়ে ফেলা হয়।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ সোহেল রানা টিপু বলেন, ১৫ আগস্ট আমাদের জীবনের একটি গভীর শোক ও বেদনার দিন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এই দিনটি বাঙালি জাতির ইতিহাসে অত্যন্ত বেদনাবিধুর একটি অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। তাই আগস্ট মাস এলেই আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও শোকের সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৫ আগস্টের সকল শহীদের স্মরণ করি।
তিনি বলেন, আগস্টের প্রথম প্রহর থেকেই আমরা শোকের মাসের কর্মসূচি শুরু করেছি। সেই ধারাবাহিকতায় রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ১৫ আগস্টের শোক ও শ্রদ্ধাঞ্জলির ব্যানার টানানো হয়েছিল। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন। এ সময় নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
শেখ সোহেল রানা টিপু আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাঙালি জাতির স্বাধীনতা ও মুক্তির মহানায়ক। তাঁর নেতৃত্বে আমরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্নকে ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস এবং দেশের স্বাধীনতা অর্জনের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের শোক আমাদের শক্তিতে পরিণত করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দেশ ও জাতির কল্যাণে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখাই হবে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক, শেখ সোহেল রানা টিপু বলেন, শোকের মাস আগস্টে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৫ আগস্টে নিহত সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাব। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হবে।
উল্লেখ্য, আগস্ট মাসকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শোকাবহ মাস হিসেবে পালন করে আসছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। দিনটি স্মরণে প্রতিবছর আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে থাকে।
এদিকে, রাজবাড়ীতে আগস্টের প্রথম প্রহরে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে রাতে শোক ব্যানার টানানো এবং সকালে তা খুলে ফেলার ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে।