
স্টাফ রিপোর্টার কৃষ্ণ কুমার সরকার:
পেঁয়াজের কালো দানা বা বীজ ‘কালো সোনা’ নামে খ্যাত পরিচিত, যার বাজারদর আকাশচুম্বী। যে কারণে পেঁয়াজবীজকে বলা হয় ‘কালো সোনা’। একসময় পেঁয়াজবীজ পুরোপুরি আমদানিনির্ভর থাকলেও দিনে দিনে দেশে এর আবাদ বাড়ছে।
জানা যায়, সারা দেশে পেঁয়াজ উৎপাদনে রাজবাড়ী জেলা তৃতীয় স্থানে। দেশের চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পেঁয়াজ উৎপাদন করে এ জেলার কৃষকরা। পেঁয়াজ চাষের পাশাপাশি পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনেও আগ্রহী হচ্ছেন এই জেলার কৃষকরা।
বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, বিস্তীর্ণ ফসলি জমিজুড়ে চাষ হয়েছে পেঁয়াজের কদম (দানা) বীজ। প্রতি বছর অগ্রহায়ণ মাসে পেঁয়াজ বীজের চাষ শুরু হয়। ফুল পাকে চৈত্র মাসে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পেঁয়াজের ফুল ভালো হয়েছে এবং সার-বীজ সময়মতো পাওয়ায় কৃষকরা ভালো ফলনের আশা করছেন। ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘা জমিতে দুই থেকে আড়াই মণ পর্যন্ত পেঁয়াজ দানা উৎপাদন হয়ে থাকে। প্রতি বিঘা জমিতে দানা আবাদে সার, বীজ, সেচ, কীটনাশকসহ অন্যান্য সব মিলিয়ে খরচ হয় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মতো।
এ বছর রাজবাড়ী জেলায় পেঁয়াজের দানা বা কদমের চাষ হয়েছে ১৪১ হেক্টর জমিতে। যার মধ্যে রাজবাড়ী সদরে ৪৬ হেক্টর, পাংশা উপজেলায় ৪৫ হেক্টর, কালুখালী উপজেলায় ২০ হেক্টর, বালিয়াকান্দি উপজেলায় ২৩ হেক্টর এবং গোয়ালন্দ উপজেলায় ৭ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের কদম চাষ হয়েছে।
রাজবাড়ী জেলার কৃষক , ইউসুফ সেখ, হারুন মিজি, আতাহার হোসেন, আসাদ মন্ডল ও সবুজ মোল্লা বলেন, এই পেঁয়াজের কদম চাষ করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। যাদের আগে ঘরবাড়ি ছিল না, তারা পাকা ঘরবাড়ি করেছেন। ছেলে-মেয়েদের স্কুল-কলেজে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করছেন। এই পেঁয়াজের কদম চাষ করে তারা এখন ভালো আছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা গোলাম রসুল জানান, এবার জেলার পাঁচ উপজেলায় ১৪১ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের দানা বা কদম চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। আমরা নিয়মিত তাদের পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছি। আশা করছি, এবার এই পেঁয়াজের দানা থেকে কৃষক লাভবান হবেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি, যারা পেঁয়াজ উৎপাদন করেন, তারা একই সঙ্গে পেঁয়াজ বীজের প্লট করলে মাছি-পোকামাকড়ের সমস্যা হবে না। এছাড়া আমরা কৃষকদের হাত পরাগায়নের পরামর্শ দিচ্ছি এবং নিজেরা তত্ত্বাবধান করছি।