1. [email protected] : dailynayakontho :
  2. [email protected] : nayakantho3941 :
  3. [email protected] : nayakontho :
  4. [email protected] : unikbd :
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৫:১০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
চট্টগ্রামে স্ত্রী হত্যায় দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড জামায়াত এমপির ভিডিওটি এআই জেনারেটেড নয়, দ্বিতীয় স্ত্রী কিনা তা নিয়ে ধোঁয়াশা নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধনে স্বচ্ছতা ও সর্বজনীন আয়োজনের দাবি রাজবাড়ী হাসপাতালের কেনাকাটায় মন্ত্রীর অসন্তোষ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৩ বিজিবির উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান মানবতার সেবায়” সম্মিলিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক পরিষদ”বাঁশখালীতে চিকিৎসকা সেবা ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ আরএমপির মাদকবিরোধী অভিযানে নারীসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার লামা থানায় প্রথমবারের মতো এসপি ওহাবুল ইসলাম খন্দকারের পরিদর্শন; মাদক, সন্ত্রাস ও সব ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর হুঁশিয়ারি পদ্মা এক্সপ্রেসে রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, টিটিইর শাস্তির দাবিতে রাজশাহীর সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ রাজবাড়ীর প্রধান ডাকঘরের শিহাব মৃধার (৩০) কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

রাজবাড়ীতে কয়েক কোটি টাকা নিয়ে উধাও এমএলএম কোম্পানী ভিএক্সসি ওয়ার্ল্ড

  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
  • ৫২ বার পঠিত

 

 

স্টাফ রিপোর্টার কৃষ্ণ কুমার সরকারঃ

 

রাজবাড়ীতে মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানী ডেসটিনি, ইউনিপি টু ইউ ও জেকা বাজারের পর এবার কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছে ভিএক্সসি ওয়ার্ল্ড নামে আরো একটি কোম্পানী। আর এই প্রতারণার সাথে জড়িত রয়েছে কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষক এবং ইসলামী লেবাজের কিছু অসাধু ব্যক্তি। তাদের প্রলোভনে সর্বশান্ত হয়েছেন অনেকেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজবাড়ীতে ভিএক্সসি ওয়ার্ল্ড এর প্রকাশ্যে কোন অফিস না থাকলেও শহরের বারেয়া বিগ বাজারের (বর্তমানে আইয়ুব হিলটপ সুপার মার্কেট) ৩য় তলায় বসে এসব ব্যক্তিরা এই প্রতারণার কার্যক্রম চালাতো। তবে প্রায় ১ বছরের মতো
তারা সেখানে তাদেরকে কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। গ্রাহককের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাসে এতোদিন কেউ মুখ না খোলার কারণে তাদের প্রতারণার বিষয়টি আড়ালে থাকে। সম্প্রতি কয়েকজন গ্রাহক এ বিষয়ে মুখ খুললে তাতে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে ভিএক্সসি ওয়ার্ল্ডের প্রতারণার গল্প। শুধু সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের ভান্ডারিয়া গ্রাম থেকেই একজন এজেন্ট ওই কোম্পানীতে বিনিয়োগের কথা বলে প্রায় কোটি হাতিয়ে নিয়েছেন। তার খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত হয়েছেন ওই গ্রামের অনেকেই।

ইতোমধ্যে ধার দেনা করে এই কোম্পানীতে টাকা বিনিয়োগ করে টাকা খোয়ানোর পর ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে স্ট্রোক মারা গেছে আবুতাহের জামাল নামে একজন ইমাম। রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া গ্রামের ভান্ডারিয়া গ্রামের শিমুল শেখ নামে একজন ভুক্তভোগী বলেন, তাদের গ্রামের রশিদ মল্লিকের ছেলে বসন্তপুর কো-অপারেটিভ হাইস্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুল হক তাকে প্রলোভন দেখান ভিএক্সসি ওয়ার্ল্ড নামক একটি অনলাইন ব্যবসা আছে, এটা আপনারা করেন ভালো হবে। এরপর তিনি আমার বাড়ীতে এসে খাওয়া দাওয়া করে। একটা প্রোগ্রামও করে। তার কিছুদিন পর তিনি আমাকে ওই ব্যবসায় ইনভেস্ট করতে বলেন এবং কিছু লভ্যাংশ দেওয়ার আশ্বাস দেন। তখন আমি বললাম এরকম কত ব্যবসা আসে, আবার চলে যায়। একথা বলার পর তিনি আমাকে জানান, কোন সমস্যানেই, তোমার টাকার রিস্ক আমি নেবো।

এরপর তিনি আমার কাছ থেকে ১২লক্ষ টাকা নেন। টাকা নেওয়ার পর তিনি আমাকে ১২লক্ষ টাকার একটি চেক দিয়েছিলেন। চেক দেওয়ার পর এক থেকে দেড় বছর তিনি আমাকে টাকা ফেরত না দিয়ে আমাকে ঘোরাতে থাকে। এ ঘটনার পর আমি ওই চেক নিয়ে ব্যাংকে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাকে জানায় চেকটি স্ক্যান করা। সে আমার কাছ থেকে ১২লক্ষ টাকা নিয়ে এভাবে চিটিং করেছে। পরে তার বিরুদ্ধে আমি আদালতে প্রতারণার মামলা করেছি। তিনি আরো বলেন, আব্দুল হক এ রকম আরো অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে।

ভান্ডারিয়া গ্রামের আতর আলী শেখের ছেলে আব্দুল জব্বার শেখ (৫০) বলেন, তাকেও আব্দুল হক ভিএক্সসি ওয়ার্ল্ড নামক অনলাইন ব্যবসার প্রলোভন দেখালে তিনিও তার কাছে ১২ লক্ষ টাকা দেন। পরবর্তীতে সে ওই টাকা আর ফেরত না দিয়ে আব্দুল হক চলতি বছরের ১৩ই মার্চ ডার্চ বাংলা ব্যাংক পিএলসি শাখার চলতি হিসাব নং-২৫৬১৫৮০০৭২৩৫৮ এসবি/এ-১৮৫০৭৫৬ এবং নম্বরের একটি চেক লিখে দেন। এই চেকটি পাওয়ার পর আমি গত ১৩ই মার্চ সাউথইস্ট ব্যাংক রাজবাড়ী পিএলসি শাখায় টাকা কালেকশনের জন্য চেকটি জমা দেই। এর দুই দিন পর গত ১৫ই মার্চ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই একাউন্টে টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার করে দেন। এ ঘটনায় আমি আব্দুল হকের বিরুদ্ধে গত ২২শে জুন আদালতে একটি মামলা দায়ের করি।ভান্ডারিয়া গ্রামের মৃত আমান উল্লা খানের ছেলে ইমাম হোসেন বলেন, মসজিদের মধ্যে নামাজ পড়ার পর আব্দুল হক এই গল্প, সেই গল্প বলার পর আমাকে একটা ব্যবসার কথা বলে। আমি এসব বুঝি না, টার্চ মোবাইল চালাতে পারি না। তখন সে আমাকে বলেন আপনাকে কিছুই করতে হবে না। আমরা একটা ব্যবসা করি, আপনি জড়িত হোন। মোটামুটি একটা ব্যবসা আছে, হালাল ব্যবসা। তখন আমি বললাম আমিতো এই ব্যবসা বুঝি না। তখন সে আবারো বললো আমরা আছি, আমরা বুঝবো।

তিনি আরো বলেন, আমি ছেলেকে বিদেশ পাঠাবো সেই মর্মে টাকা পয়সা জোগাড় করেছিলাম এবং তাদের কাছে শেয়ার করতাম সব কথা। তখন আব্দুল হক আমাকে বলেন বিদেশের টাকা আমি দিব। এই টাকাটা আমাদের কাছে ইনভেস্ট করেন। প্রথমে ২লক্ষ ১০ হাজার টাকা মসজিদের মধ্যে লেনদেন করি। মোট ৪ কিস্তিতে সে আমার কাছ থেকে ৭লক্ষ ১০ হাজার টাকা নিয়েছে। এর কিছুদিন পর সে আমাকে ভিএক্সসি কোম্পানীর কি একটা কাগজ এনে আমাকে ধরিয়ে দিয়ে বলে এই নেন, আপনার ডকুমেন্টস। আমি তখন বলি এটা কি দিলেন, এটা কোন কাজে লাগাবো। তখন সে আমাকে জানায় তুমি কি চাও। তখন আমি স্ট্যাম্প বা চেকের কথা বললে সে বলে ঠিক আছে তোমাকে এইগুলো দেওয়া হবে। পরবর্তীতে সে আর আমাকে কিছুই দেয়নি বরং এখন বিভিন্ন টালবাহানা করছে।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনার পর আমি পাঁচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে টাকা আদায়ের জন্য একটি লিখিত অভিযোগ করি। চেয়ারম্যান তাকে কয়েকবার তলব করলেও সে তাতে কর্ণপাত করেননি।

ইমাম শেখ আরো বলেন, ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য ধারণা দেনা করে টাকা জোগাড় করেছিলাম, সেই টাকা আব্দুল হককে দিয়ে এখন আমি সর্বশান্ত হয়ে পড়েছি। পাওনাদার আমার বাড়ীতে এসে আমাকে গালিগালাজ করে, নানা ধরণের কথাবার্তা বলে। দুই বছর হলো আমি আব্দুল হককে টাকা দিয়েছে। গত ৬/৭ মাস ধরে সে আমাকে টাকা ফিরিয়ে দিবে বলে ঘুরিয়েছে। এখন সে আমার সাথে কোন কথাই বলে না। আমাকে পাত্তাই দেয় না। আমি গরীব মানুষ, দিন আনি, দিন খাই। আমি প্রতারণার বিচার চাই।
প্রতারণার বিচার চাই।

একই গ্রামের হাসান শেখ নামে আরো এক ভুক্তভোগী বলেন, আব্দুল হক আমার কাছ থেকে অনলাইনে ব্যবসার কথা বলে দেড় বছর আগে আড়াই লক্ষ নেয়। কিন্তু সে এখন আমাকে আমার টাকা ফেরত দিচ্ছে না।

ভান্ডারিয়া গ্রামের আবু তাহের জামালের স্ত্রী রোজিনা বেগম বলেন, আমার স্বামীর সাথে আব্দুল হকের খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। আমার স্বামী তাকে মিয়া ভাই বলে ডাকতো। আমার স্বামী একদিন আমাকে বলেছিলেন মিয়া ভাই বিজনেস করেন, আমাকেও বলতেছে সেটি করার জন্য। আমি আমার স্বামীকে নিষেধ করেছিলাম। এরপর আমার স্বামী আব্দুল হককে সেকথা জানালে তিনি বলেন, সব কিছুই কি স্ত্রীর কাছে বলে করতে হয়। আমরা করছি, তুমিও করো। পরবর্তীতে তিনি আমার স্বামীকে নানা প্রলোভনে ফেলে তার কাছ থেকে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নেন। এই টাকার মধ্যে একবার চেকের মাধ্যমে ৪লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন। আব্দুল হক সেই ৪লক্ষ টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নিয়েছিলেন। এছাড়া গোয়ালন্দ মোড়ে অগ্রণী ব্যাংক থেকে আমার স্বামীর নামে ৫লক্ষ টাকা লোন করে নিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, আমার স্বামী যখন জানতে পারলেন এই অনলাইন কোম্পানী রাজবাড়ী থেকে চলে গেছে এমনকি আব্দুল হক যখন আমার স্বামীর টাকা ফেরত দিচ্ছেন না, তখন আমার স্বামী খুব টেনশনে পড়ে যান। সব সময় চিন্তায় থাকতেন। এসব চিন্তা করতে করতেই গত রোজার মধ্যে আমার স্বামী স্ট্রোক করে মারা যান।
আমাদেরতো আর কোন ব্যাংক ব্যালেন্স নেই। এই টাকাগুলোই সম্পদ ছিল। এখন আমি কি করবো। কোথায় যাবো। এই লোনের টাকা কিভাবে পরিশোধ করবো। কারণ আমার তো আর কেউ নেই। আমার ছোট দুটি সন্তান। আমি আব্দুল হকের কাছে আমার স্বামীর টাকা এবং আমার স্বামীর নামে তিনি লোন করিয়ে যে টাকা নিয়েছেন সেটা ফেরত চাই।

স্থানীয়রা জানান, আব্দুল হক অনলাইনে ব্যবসার কথা বলে কোনাইল গ্রামের হাবিবুর রহমানের কাছ থেকে ২লক্ষ টাকাসহ আরো মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছেন।
বিনিয়োগ করে।

এই কোম্পানীর সাথে রাজবাড়ীতে আর কে কে জড়িত আছে এমন প্রশ্নে তিনি তাদের নাম না বললেও অনেক স্বনামধন্য কলেজ শিক্ষকও জড়িত আছে বলে তিনি জানান। এছাড়াও রাজবাড়ীতে বেশ কিছু ভিআইপি পারসন আছে তারাও এই কোম্পানীতে অনেক টাকা বিনিয়োগ করেছেন বলে তিনি স্বীকার করেন।

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD