
টাঙ্গাইলে রাতের আধারে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন –
হুমকিতে রয়েছে নদী পাড় রক্ষায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং।
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
ইঞ্জিন চালিত নৌকায় ড্রেজার বসিয়ে রাতের আঁধারে বালু উত্তোলনে ৫ বছরে দুই হাজার বাড়িঘর যমুনা নদীতে বিলীন।
হুমকিতে রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নদী পাড় রক্ষায় জিও ব্যাগ ডম্পিং।
সোমবার (৪ নভেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দোখা যায়
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ১০টি গ্রামের অন্তত দুই হাজার বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
যমুনা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু মাটি তোলায় নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনাসহ আরও বসতবাড়ি ও বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি। জানা যায়, উপজেলার গোবিন্দাসী ঘাট পাড় থেকে শুরু করে খানুর বাড়ি কষ্টা পাড়া ভাল কুটিয়া, চিতুলিয়া পাড়া এলাকায় রাতের আধারে নৌকায় ভ্রাম্যমান ড্রেজার বসিয়ে
বালু উত্তলনের মহা উৎসবে মেতে উঠেন এলাকার রস্তম মন্ডলের ছেলে মহির উদ্দিন (৬৫), আব্দুল আলিম প্রমানিকের ছেলে মাসুদ (৩০), বছের প্রমানিকের ছেলে
আমজাদ (৩৫)। যেসব এলাকায় ড্রেজার বসানো হয় সেখানে নদীভাঙন রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক জিও ব্যাগ ডম্পিং করা হয়েছে ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ৫-৬ বছর ধরে নদী থেকে ড্রেজার বসিয়ে মাটি উত্তোলন চলছে। বিগত সরকারের আমলে স্থানীয় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তলন করা হয়েছে।
ফলে খানুর বাড়ি কষ্টা পড়া, ভাল কুটিয়া, চিতুলিয়া গ্রামসহ পুরো এলাকায় অন্তত ৬০০ পরিবার গৃহহীন হয়েছেন বলে জানান এলাকা বাসি। বর্তমান নতুন সরকার আসার পড়ে নতুন অভিনব কৌশলে নদী কেটে উজার করে দিচ্ছে। নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি যানান, ইন্জিন চালিত নৌকায় রাতের আধারে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তলনের সময় আশে পাশের রাস্তা গুলোতে পাহারা বসানো হয়। তা ছারা রাতের বেলা কোন অভিযান না থাকায় থামছে না বালু খেকোদের দূরআত্বা। স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ হাফিজুর রহমান শাহিন বলেন, যারা যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে সে যেই হোক আমি তাদেরকে সমর্থন করি না। জিও ব্যাগ ও নদী তীর রক্ষায় তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ নুরুজ্জামান জানান, নদী তীরবর্তী যে সকল জায়গায় ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে তার আশপাশের এলাকায় বালু উত্তোলন হলে নদী তীরবর্তী জিও ব্যাক ডাম্পিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চরম ঝুঁকিতে পড়বে নদী রক্ষা বাদসহ শত শত ঘরবাড়ি। যমুনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তলোন হলে প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই বিষয়ে নির্বাহী অফিসার ভারপ্রাপ্ত ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহিমা বিনতে আখতার জানান, খুব দ্রুত আইনি ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। অবৈধ ভাবে নদীতে বালু উত্তলনের বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।