
জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়তে সরকারকে আরও উদারতার পরিচয় দিতে হবে”*নজরুল ইসলাম
কায়সার আশ্রাফীঃ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রাম, ২২ জুলাই: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর দায়িত্বশীল সমাবেশ বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় নগর জামায়াতের দেওয়ানবাজারস্থ কার্যালয়ের বিআইএ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ ও ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুস, সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেয়রপ্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, ডা. ছিদ্দিকুর রহমান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এস. এম. লুৎফর রহমান, নগর কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মাওলানা মমতাজুর রহমান, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসাইন, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, কোতোয়ালী থানা আমীর আমির হোসাইন, হালিশহর থানা আমীর ফখরে জাহান সিরাজী সবুজ, বন্দর থানা আমীর মাহমুদুল আলম, ডবলমুরিং থানা আমীর ফারুকে আযম, চান্দগাঁও থানা আমীর মুহাম্মদ ইসমাইল, ড. আ. ম. ম. মসরুর হোসাইন, চকবাজার থানা আমীর আহমেদ খালেদুল আনোয়ার, আকবরশাহ থানা আমীর আব্দুল হান্নান চৌধুরী, পতেঙ্গা থানা আমীর অধ্যক্ষ মুহাম্মদ সেলিম, ইপিজেড থানা আমীর মুহাম্মদ আবুল মোকাররম, বাকলিয়া থানা আমীর সুলতান আহমদ, খুলশী থানা আমীর আলমগীর ভুঁইয়া, বায়েজিদ থানা আমীর অধ্যাপক জাকির হোসেন, পাঁচলাইশ থানা আমীর ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল হাছান রুমি, সদরঘাট থানা আমীর মুহাম্মদ আব্দুল গফুর, এবং পাহাড়তলী থানা আমীর নুরুল আলম।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, জুলাই বিপ্লব ছিল একটি বৈষম্য, দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের গণআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকারকে বিভেদের রাজনীতি পরিহার করে জাতীয় ঐক্যের পথে এগিয়ে যেতে হবে। আরও উদারতার পরিচয় দিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলসহ সকল অংশীজনকে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, জাতীয় সংকট মোকাবিলায় প্রতিহিংসা বা বর্জনের রাজনীতি নয়, বরং অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতিই দেশকে স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে নিতে পারে।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সকল শহীদের সমান মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। একই মর্গে থাকা এবং একই দিনে একই স্থানে শাহাদাতবরণকারী শহীদ ওয়াসিম, শহীদ শান্ত ও শহীদ ফারুকের প্রতি রাষ্ট্রের সমান দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও শান্ত ও ফারুককে সরকারিভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তিনি আরও বলেন, গণভোটে সর্বোচ্চ ভোটে প্রাপ্ত জনগণের ম্যান্ডেট উপেক্ষা করে জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগকে খাটো করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ, জুলাই সনদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিশ্চিতকরণ এবং সংস্কার কমিশনের যৌক্তিক প্রস্তাবসমূহ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
নজরুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বৃহত্তর চট্টগ্রামকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবিকে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। তিনি অন্তত সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বাজারে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে জনগণ স্বস্তি ফিরে পায়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জঙ্গল ছলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা, স্মার্ট গ্রুপের বাড়িতে হামলা, ডিডিএন অফিসে হামলাসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে। কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলেও এসব ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও হোতারা এখনো আইনের আওতার বাইরে রয়েছে। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সমাবেশে মহানগর জামায়াতের সাংগঠনিক কার্যক্রম, চলমান জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি, বন্যা ও দুর্যোগ-পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রম, আগামী দিনের সাংগঠনিক পরিকল্পনা এবং দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। নেতৃবৃন্দ সাংগঠনিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।