
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন রাজশাহী ব্যুরোঃ
রাজশাহীতে আন্তঃজেলা মহাসড়কে চলন্ত যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ১ কেজি ৫০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), জেলা কার্যালয়, রাজশাহী। এ ঘটনায় এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ চক্রের মূল হোতা বা গডফাদারকে শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ ইকবাল হাসান (২৪)। তিনি রাজশাহী জেলার পুঠিয়া পৌরসভার রামজীবনপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম মোঃ সাইদুল ইসলাম এবং মাতার নাম হাসনা হেনা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২১ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী মডেল থানাধীন দেওপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সারইল গ্রামে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী মহাসড়কে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহীগামী কর্ণফুলি (মহানন্দা স্পেশাল) বাসে তল্লাশি চালানো হয়। বাসটির সর্বশেষ সারির পাঁচ আসনের মাঝের সিটে বসে থাকা ইকবাল হাসানের দখলে থাকা একটি অ্যাশ রঙের স্কুলব্যাগ তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ হেরোইন উদ্ধার করা হয়।
তল্লাশির সময় ব্যাগের ভেতরে কাপড়ে মোড়ানো এবং স্কচটেপ দিয়ে প্যাঁচানো অবস্থায় ১৫টি স্বচ্ছ পলিথিন প্যাকেট পাওয়া যায়। প্রতিটি প্যাকেটে ১০০ গ্রাম করে মোট ১ কেজি ৫০০ গ্রাম বাদামি রঙের গুঁড়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ সময় আসামির কাছ থেকে একটি Samsung Galaxy A16 অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়, যা তদন্তের স্বার্থে আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩৬(১) সারণির ক্রমিক ৮(গ) ও ৪১ অনুযায়ী গোদাগাড়ী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি সংঘবদ্ধ মাদক পাচার চক্রের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এ মামলার সঙ্গে জড়িত মূল হোতা বা গডফাদারসহ অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সীমান্তবর্তী এলাকাকে ব্যবহার করে মাদক পাচারের যে অপচেষ্টা চলছে, তা রোধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা তৎপরতা ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে বলেও তারা জানান।