
নেসকোর সদর দপ্তর সরানোর উদ্যোগে উদ্বেগ, রাজশাহীবাসীর প্রশ্ন—আবারও কি বঞ্চিত হবে রাজশাহী?
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন
রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহী থেকে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)-এর সদর দপ্তর বগুড়ায় স্থানান্তরের সম্ভাব্য উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজশাহীর বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি ক্ষোভও প্রকাশ পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা পরিবর্তনের বিষয় নয়; বরং রাজশাহী অঞ্চলের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, যদি প্রকৃত অর্থেই বিকেন্দ্রীকরণের নীতি বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে শুধু নেসকো নয়, ঢাকাকেন্দ্রিক অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তরও প্রয়োজন ও বাস্তবতার ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, খামারবাড়ি এবং নৌবাহিনীর সদর দপ্তরের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা যেতে পারে বলে তারা মনে করেন।
এদিকে, রাজশাহী বিভাগের বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক দপ্তর ইতোমধ্যেই বগুড়ায় স্থানান্তরিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, যদি ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন হয়, তাহলে বিভাগের মধ্যবর্তী অবস্থানের কারণে নাটোরকে বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে বারবার রাজশাহীর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান ও দপ্তর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে বৈষম্যের অনুভূতি সৃষ্টি করছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহলের অভিমত, শুধুমাত্র একটি চিঠি বা একক সুপারিশের ভিত্তিতে নেসকোর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা স্বচ্ছতা, যৌক্তিকতা ও জনস্বার্থের প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজন, বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় জনগণের মতামত গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়েছে।
রাজশাহীর মানুষের প্রশ্ন, উন্নয়নের নামে আর কতবার এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে? তারা মনে করেন, সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে কোনো অঞ্চলকে বারবার বঞ্চিত না করে তথ্যভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জনস্বার্থসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন।