
গোপীনাথপুর থেকে আক্কেলপুরে কৃষক কার্ড কার্যক্রমের শুভ সূচনা: কৃষকদের তথ্য সংগ্রহে শুরু হলো রোডম্যাপ বাস্তবায়ন
মোঃ শাহাবউদ্দিন ইসলাম
আক্কেলপুর প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় প্রথমবারের মতো কৃষকদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে কৃষক কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের রোডম্যাপ গোপীনাথপুর ইউনিয়ন থেকে শুরু হয়েছে। উপজেলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বারইল পশ্চিমপাড়া গ্রামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রমের শুভ সূচনা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ইমরান হোসেন। তিনি বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে সরকারি কৃষি সহায়তা, ভর্তুকি, প্রণোদনা, উন্নত বীজ, সার ও কৃষি ঋণসহ বিভিন্ন সেবা সহজ ও স্বচ্ছভাবে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু বক্কর, গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এস এম কায়কোবাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ, সদস্য রেজাউল ইসলাম, আলাউদ্দিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কৃষক দেশের খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান চালিকাশক্তি। কৃষকদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে কৃষক কার্ড একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করা সহজ হবে এবং সরকারি সহায়তা যথাযথ ব্যক্তির কাছে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
তারা আরও জানান, গোপীনাথপুর ইউনিয়ন থেকে শুরু হওয়া এই তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে আক্কেলপুর উপজেলার সব ইউনিয়নে পরিচালিত হবে। মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা সরাসরি কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করবেন, যাতে কোনো প্রকৃত কৃষক এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন।
এ সময় স্থানীয় কৃষকরাও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, কৃষক কার্ড চালু হলে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে আর হয়রানির শিকার হতে হবে না। এতে কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বক্তারা বলেন, “কৃষকই দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। কৃষকের উন্নয়ন মানেই দেশের উন্নয়ন। কৃষককে এগিয়ে নিতে সরকারের এমন সময়োপযোগী উদ্যোগ দেশের কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করবে।”