
মোঃ লিটন হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা সারা বাংলাদশে এখন আলোচিত উপজেলা কারণ সম্প্রতি একই পরিবারের ৪ জনকে কুপিয়ে হত্যা কান্ডের ঘটনা ঘটেছে। ধারণা করা হচ্ছে মাদকাসক্ত অন্তর মজুমদার মাদকের টাকার জন্য এই ঘটনা ঘটাতে পারে। উপজলোর গ্রামে গ্রামে মাদকের নীল ছোবলে ভাসছে তরুণ সমাজ। উপজলোর পৌর শহরসহ গ্রামে গ্রামে ঢুকে পড়েছে মাদক। পৌর শহরসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা হচ্ছে। এই মাদক বেচাকেনায় জড়িয়ে পড়ছে এলাকার তরুণরা। এতে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা।
শহরের নতুন বাজার, খেজুরতলা, সফিকুর রহমান ভূইঞা সাহেবের বাড়ি দরজা, সাবেক কমিশনার নুরু খাঁর বাড়ির আশপাশ এলাকা, টিসি রোড, শ্রমিক বিড়ি ফ্যাক্টরি সংলগ্ন এলাকা,মধুপর, মহিলা কলেজ, বাঁশরী সিনেমা হল এলাকা, মুচিপট্টি, পৌরভবন সংলগ্ন এলাকা, মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ আলম সড়কের মাথা, সরকারি কলেজ সংলগ্ন এলাকা, পীর ফজলুল্লা সড়কের এসপি সার্কেল অফিসের পেছনের গলি, বাস-স্ট্যান্ড এলাকা, বকসী বাড়ির দিকে যেতে কাঞ্চনপুর রোড, ফিস হ্যাচারির সামনে, মধুপুরের কসাইপট্টি,গাজীনগর,চরপাতা,সুনামগন্জ্ঞ,কাফিলাতলী,মোল্লার হাট,বামনী বাংলা বাজার, রাখালীয়া বাজার, উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের বাংলা বাজার, ঝাউডগী, মতি মেম্বারের গোঁজা, হায়দরগঞ্জ রমিচ উদ্দিন স্কুল সংলগ্ন এলাকা ও মিতালী বাজার মাদকরে অন্যতম স্পট।
এসব এলাকায় প্রায়ই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশের বিভিন্ন বিভাগ অভিযান চালাচ্ছে। এতে মাদকদ্রব্যসহ মাদকসেবী, মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করা হলেও থামছে না মাদক চোরাচালান ও সেবন। উল্লেখিত স্পটগুলোতে গাঁজা, ফেন্সিডিল, মদ, ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে হরহামেশাই। তবে বহন সুবিধাজনক হওয়ায় ইয়াবার বেচাকেনা সবচেয়ে বেশি। পৌর শহরসহ গ্রামে গ্রামে চলছে নীরবে ইয়াবার সেবন। এদের মধ্যে অধিকাংশই উঠতি বয়সী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তরুণ ইয়াবা ব্যবসায়ী বলেন, ৮০/৯০ টাকা দিয়ে একটা ইয়াবা ট্যাবলেট কিনে ২৫০/৩০০ টাকা বিক্রি করা যায়, সারাদিন পরিশ্রমের কাজ না করে শর্টকাটে ভালো ইনকাম করা যায়। যার কারণে দিন দিন বেশির ভাগ মানুষই এই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। তবে এতে ঝুঁকি আছে যার কারণে প্রশাসনের লোক ও প্রভাবশালী দুই-একজনকে হাতে রাখা লাগে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি জেড এম নাজমুল ইসলাম মিঠু বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স ‘মাননীয় এমপি আবুল খায়ের ভূইয়া মহোদয়ের নির্বাচনী ঘোষণা ছিলো মাদক নির্মুল করা। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। প্রতিদিনই আটক করা হচ্ছে। আশাকরি ধীরে ধীরে কমে আসবে।
রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন মিঞা বলনে, শহরে মাদক বেচাকেনার বেশকিছু স্পট পুলিশ চিহ্নিত করেছে। অনেকে ক্ষেত্রে দেখা যায়, পুরাতন মাদক কারবারিরা কারাগার থেকে বেড়িয়ে আবার মাদকে জড়িয়ে পড়ে। তবে প্রতিনিয়ত মাদক-বিরোধী অভিযানে এখন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। মাদক সেবন ও বিক্রি রোধে সকলের সহযোগিতা কাম্য বলে জানান তিনি।
সচেতন মহলের দাবী মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে এই উপজেলার ৮০ ভাগ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।