স্টাফ রিপোর্টার ঃ দৌলতদিয়াতে রাতের অন্ধকারে ফেরী,ড্রেজার ও বালগ্বেট থেকে তৈল চুরির ঘটনা নতুন নয়,বহু পুরানো। মাঝখানে বন্ধ ছিল। সম্পাতি একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় আবারও তা চালু হয়েছে।
গত ২১শে ডিসেম্বর গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২নং ফেরীঘাট এলাকা থেকে দৌলতদিয়া নৌপুলিশের হাতে ১৪শ লিটার তৈলসহ ধরা পড়ে, আলোচিত চোরাই তৈল ব্যবসায়ী সফি ওরফে তেইলা সফির দুই সহযোগী কামাল সেখ ও হাবীল বেপারী। কিন্তু এই ঘটনার মুলহোতা সফি ওরফে তেইলা সফি এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোঁপের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। অবশ্য গ্রেপ্তারকৃতরা নিজের মুখে উপস্থিত সাংবাদিক এর কাছে তেইলা সফির নাম বলে সাক্ষাৎকার দিলেও, অদৃশ্য কারণে তাকে মামলায় আসামি করা হয়নি। শুধু তাই নয়, বিষয়টা ধাঁমাচাপা দেওয়ার জন্য,
ঘটনার দিন রাতে একাধিক স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের দিয়ে চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ঘটনা স্থলে একজন সাংবাদিক উপস্থিত থাকার কারণে বিষয়টা হজম করা সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক দৌলতদিয়া ৪নং ফেরীঘাটের এক বাসিন্দা বলেন,তেইলা সফি ফেরী ও জাহাজ থেকে দীর্ঘদিন যাবত তৈল চুরি করে বিক্রি করছে। মাঝখানে সে ২০১৮ সালে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে পড়েছিল। তার নামে তৈল চুরির একাধিক মামলা আছে।
১নং ফেরীঘাটের আরেক এক বাসিন্দা বলেন, সফি ফেরী ও ড্রেজার থেকে তৈল চুরি করে বলেই ওর নাম হয়েছে তেইলা সফি।
৬নং ফেরীঘাটের অন্য এক বাসিন্দা বলেন,সফির অবৈধ টাকা আছে। তাই দৌলতদিয়া বেশিরভাগ রাজনৈতিক নেতারা এখন সফির পিছনে পিছনে ঘুরে।
প্রথমে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সফি ওরফে তেইলা সফি বলেন, আমি এই কাজ একা করি না। আমার সাথে অনেক রাজনৈতিক নেতা জরিত আছে। পরে তার এই বক্তব্য রেকর্ড হচ্ছে জেনে বলেন,আমি নির্দোষ, এই ঘটনার কিছুই জানি না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৌলতদিয়ার এক রাজনৈতিক নেতা বলেন,আমরা সফির কাছ থেকে কোন সুবিধা নেই না। তবে সফি আমাদের এক নেতাকে সুবিধা দেওয়ার কথা বলেছিল।
এবিষয়ে দায়সারা বক্তব্য দিয়েছেন নৌপুলিশের ফরিদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন ও দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ এমরান মাহমুদ তুহিন বলেন, তদন্ত অব্যাহত চলছে।
তবে এই তৈল চুরির মুলহোতা সফি ওরফে তেইলা সফিকে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন নৌপুলিশের ডিআইজি কুসুম দেওয়ান। বলেন, তদন্ত চলছে। এই তৈল চুরির সাথে জরিত রয়েছে, এমন কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।