
ইউএনও, মনিষা রানী কর্মকারের উদ্যোগে শিবালয় ভূমি অফিসে সেবায় স্বচ্ছতা, রাজস্ব আদায়ে শতভাগ সাফল্য
মোমিন শেখ:
শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), মনিষা রানী কর্মকারের উদ্যোগে শিবালয় ভূমি অফিসে সেবায় স্বচ্ছতা, রাজস্ব আদায়ে শতভাগ সাফল্য অর্জন করেছেন। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা এবং জনবান্ধব কার্যক্রমের সমন্বয়ে ভূমি ব্যবস্থাপনায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা ভূমি অফিস। ভূমি সেবা সহজীকরণ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি, অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রম এবং ভূমি উন্নয়ন কর ও ভিপি (ভেস্টেড প্রপার্টি) সম্পত্তির লিজমানি আদায়ে চলতি অর্থবছরে শতভাগ সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে উপজেলা ভূমি প্রশাসন। এ অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করেছে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের কাছেও ভূমি অফিসের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ভূমি সেবাকে হয়রানিমুক্ত, সহজ ও দ্রুততর করতে বিগত এক বছরে একাধিক কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়মিত গণশুনানির আয়োজন, সেবাগ্রহীতাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান, অনলাইনে আবেদন গ্রহণ ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধে উদ্বুদ্ধ করতে সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে নিবিড় তদারকির ফলে সেবার মান যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি রাজস্ব আদায়ের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সূত্রটি আরও জানায়, চলতি অর্থবছরে প্রায় দুই কোটি টাকা ভূমি উন্নয়ন কর ও ভিপি সম্পত্তির লিজমানি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী শতভাগ আদায় করা সম্ভব হয়েছে। শিবালয় উপজেলার ইতিহাসে এবারই প্রথম শতভাগ ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের রেকর্ড গড়েছে উপজেলা ভূমি প্রশাসন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সুষ্ঠু পরিকল্পনা, নিয়মিত তদারকি এবং জনগণের ইতিবাচক অংশগ্রহণের ফলেই এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), মনিষ রাণী কর্মকার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ভূমি অফিসে সেবার পরিবেশে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে।
আগে বিভিন্ন কাজে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলেও এখন অধিকাংশ আবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিষ্পত্তি হচ্ছে। দালালনির্ভরতা কমেছে, সেবাপ্রত্যাশীরা সরাসরি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছেন।
শিবালয় উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ভূমি সেবাকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও জনবান্ধব করতে নিরলসভাবে কাজ করা হচ্ছে। জনগণের দোরগোড়ায় হয়রানিমুক্ত সেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি শতভাগ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি, করদাতাদের উদ্বুদ্ধকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) (অতিরিক্ত দায়িত্বরত), মনিষ রানী কর্মকার বলেন, চলতি অর্থবছরে শিবালয় উপজেলায় শতভাগ ভূমি উন্নয়ন কর এবং ভিপি সম্পত্তির লিজমানি আদায় সম্ভব হয়েছে। এ অর্জন কোনো একক ব্যক্তির নয়। উপজেলার সচেতন ও দায়িত্বশীল জনগণ, সাতটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং উপজেলা ভূমি অফিসের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল এটি। এজন্য আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। ভবিষ্যতেও স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবার মাধ্যমে জনগণকে আরও উন্নত সেবা প্রদান করা হবে।
মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন্ন আরা সুলতানা বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা আমাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছি। জনগণকে উন্নত ও হয়রানিমুক্ত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের এ প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অর্জিত এ সাফল্য ধরে রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভূমি সেবায় ডিজিটাল পদ্ধতির সম্প্রসারণ, নিয়মিত মনিটরিং, কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা এবং জনগণের সচেতন অংশগ্রহণের সমন্বয়েই শিবালয় উপজেলা ভূমি অফিস এ সাফল্য অর্জন করেছে। প্রশাসনের এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ভূমি ব্যবস্থাপনায় আরও গতি আসবে এবং জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব আদায়েও ইতিবাচক ধারা বজায় থাকবে।