
রিমন হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি হাজি এম এ কালাম সরকারী কলেজে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ভূল প্রশ্ন পরীক্ষা দিয়ে ভেঙ্গে পড়েছে।
২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদেরকে ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের
হাতে তুলে দিয়ে এ পরীক্ষা গ্রহণ করেন তারা। ঘটনা অনেক শিক্ষার্থী প্রতিবাদ জানালেও তৎক্ষনাৎ প্রতিকার পায় নি শিক্ষার্থীরা। এ অভিযোগ একাধিক ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীর।
অভিযোগকারীদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম,সাদিয়া সুলতানা,উম্ম হাবিবাহ ও লাউকিয়া তঞ্চঙ্গা বলেন,তারা সকল নাইক্ষ্যংছড়ি হাজিএম এ কালাম সরকারী কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী। শুরুর দিন বৃহস্পতিবার তারা বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা দেয়। এখানে এমসিকিউ ৩০ নম্বর প্রশ্ন সিট পেয়ে তারা বৃত্ত ভরাট করে আন্দাজে। উত্তর ছিল কঠিন। ২/৩ টা সঠিক মনে হয় তাদের। পরীক্ষা শেষে।
বাড়ি ফিরে পুনরায় এমসিকিউ সিট দেখতে গিয়ে চোখে পড়ে এটি ২০২৫ সালের প্রশ্ন। চোখছানা বড় হয়ে যায় তাদের।
মিলিয়ে দেখে ৪/৫ টির উত্তর সঠিক। বাকী গুলো ভূল হয়ে গেছে। এখন তাদের প্রশ্ন তারা তো নিঘার্ত ফেল! এখন তাদের খাবার ও ঘুম হারাম হয়ে যায় ২ দিন। এভাবে অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর জীবন মাঠে মারা গেছে।
তাদের প্রশ্ন! এ ঘটনায় কে দায়ী ? আর তাদের কী হবে ? স্যারেরা ডিউটি করলেন। স্বাক্ষর করলেন। আর শিক্ষার্থীরা তো প্রাণ হাতে নিয়ে ভয়ে ভয়ে অনেক কিছু দেখার সুযোগ পায নি। তারা এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে এ ঘটনার প্রতিকার ও সুষ্ট সমাধান চান। আর এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারও চান। পাশাপাশি
তারা এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেন।
অপর দিকে প্রতিবেদককে একাধিক অভিভাবক বলেন,তারা পরীক্ষার হলে এ ভূল দেখে পরিদর্শকদের বলেছিলেন,কিন্তু তারা এটি কিছু হবে না বলে উড়িয়ে দেন এবং তাদের সন্তানদের মুখ বন্ধ রাখেন।
এ বিষয়ে হল পরিদর্শক অধ্যাপক জসিমউদদীন বলেন,তার হলে ৮ জনের এ সমস্যা দেখা দিলে তিনি তৎক্ষনাৎ সংশ্লিষ্টদের অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন পরিবর্তন করে দেন।
কলেজের অসর্থিত একটি সুত্র জানান,
এ কলেজে পরীক্ষার হল রয়েছে প্রায় ১১ টি। একেন্দ্রে অংশ গ্রহন করে ২ টি কলেজ। এতে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৪৩৬ জন। তন্মধ্যে ২১ জন অনুপস্থিত ছিল।
বান্দরবান ৩০০ আসনের এমপি প্রতিনিধি
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য
নুরুল আলম কোম্পানী বলেন,সরকার মান সম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যে যেখানে মরিয়া সেখানে শিক্ষকরা চরম অবহেলা করে শিক্ষার্থীদের ভূল প্রশ্ন দেয়া অমার্জনীয় কাজ করেছেন। এখন তার দাবী,অনতিবিলম্বে শিক্ষার্থীদের এ সমস্যা সমাধান করে তাদের ফলাফল নিশ্চিতের আহবান জানান তিনি।
কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির আহবায়ক এমদাদুল্লাহ মো: ওসমান বলেন,কিছু সমস্যার কথা তিনি জেনেছেন। তবে এতো বড়ো সমস্যা তিনি শুনেন নি। হল পরিদর্শকরা তৎক্ষনাৎ বললে তা সমাধানের সুযোগ ছিল। যেমন অধ্যাপক জসিম সাহেব করেছেন।
তবে এ বিষয়ে জানতে কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাফর আলমের সাথে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি তিনি,তাই তার বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয় নি।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান বলেন,শুক্রবার বিকেলে অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ও কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির মাঝে আলোচনা হয়েছে বলে জেনেছেন তিনি।
এছাড়া সমূহ পরিস্খিতিতে অভিযোগ যাচাই পুর্বক বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান উপজেলার এ অভিভাবক।