
স্পোর্টস ডেস্কঃ
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রথম ম্যাচেই ইতিহাস গড়লেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় উপহার দিয়েছেন তিনি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচে মাঠে নামার মধ্য দিয়েই নতুন এক রেকর্ডের মালিক হন মেসি। ফুটবল ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনি ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তার অবিশ্বাস্য হ্যাটট্রিক, যা তাকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের কাতারে নিয়ে গেছে।
ম্যাচের শুরুতেই গোলের দেখা পেয়েছিলেন মেসি। পঞ্চম মিনিটে তার করা গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এরপর আলজেরিয়াও একবার জালের দেখা পেলেও সেটিও অফসাইডের কারণে টেকেনি।
১৭তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন মেসি। প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হলেও দ্বিতীয়ার্ধে নিজের আধিপত্য আরও স্পষ্ট করেন তিনি।
৬০তম মিনিটে গোলরক্ষকের ফিরিয়ে দেওয়া বল জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন মেসি। এতে তিনি বিশ্বকাপে ব্রাজিল কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকে ছাড়িয়ে ক্লোসার রেকর্ডের খুব কাছে পৌঁছে যান।
অবশেষে ৭৭তম মিনিটে বাঁ পায়ের অসাধারণ বাঁকানো শটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। সেই গোলের মাধ্যমেই বিশ্বকাপে ১৬ গোল করে মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেন তিনি। বিশ্বকাপে তার নামের পাশে এখন ১৬ গোল ও ৮টি অ্যাসিস্ট।
বিশ্বকাপ মঞ্চে এটি মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক। এর আগে ২০১৪ সালে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে এবং ২০২২ সালের ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে জোড়া গোল করলেও কখনও হ্যাটট্রিকের দেখা পাননি তিনি।
এদিকে ম্যাচটি ছিল আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। রেকর্ড গড়া এই রাতে আরও একটি অনন্য কীর্তি নিজের করে নিয়েছেন তিনি। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী এবং সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতা—দুই রেকর্ডের মালিক এখন একমাত্র লিওনেল মেসি।
রেকর্ড, হ্যাটট্রিক এবং দাপুটে জয়—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ মিশনের শুরুটা স্বপ্নের মতোই হলো আর্জেন্টিনা ও তাদের অধিনায়কের জন্য।