1. [email protected] : dailynayakontho :
  2. [email protected] : nayakantho3941 :
  3. [email protected] : nayakontho :
  4. [email protected] : unikbd :
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
ফেসবুক ও মেসেঞ্জারের হঠাৎ সার্ভার ডাউন, ভোগান্তিতে ব্যবহারকারীরা ‘বাজেট আসে, বাজেট যায়, আমাগো কিচ্ছু হয় না’ পাঁচবিবিতে ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী মেলা। সাংবাদিক পরিচয়ে অটোচালকের ২৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ, প্রতারণা মামলার আসামি মিমুল গ্রেফতার বাগমারায় হারানো টিয়া পাখি নিয়ে চাঞ্চল্য,ফিরে পেতে মালিকের অভিযোগ। বাবার সঙ্গে গাঁজা নিতে এসে ১৪ বছরের কিশোরী আটক ইতিহাস গড়ল ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ, ভাঙল ১২ বছরের রেকর্ড মেহেরপুরে যুবদলের আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ২ জন গ্রেপ্তার। পাঁচবিবি সীমান্ত পাহাড়ায় বিজিবির সঙ্গে আনসার ও গ্রাম পুলিশ।

‘বাজেট আসে, বাজেট যায়, আমাগো কিচ্ছু হয় না’

  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬
  • ৬ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সংসদে বড় অঙ্কের বাজেট পাস হয়, কিন্তু রিকশাচালক আক্কাস আলীর সংসারের হিসাব মেলে না। কেননা বাজেট এলেও তাঁর আয় বাড়ে না; মাসের শেষে থাকে তাঁর একই রকম অভাব। নিয়ম করেই প্রতিদিন তাঁকে রিকশা নিয়ে পথে নামতে হয় আয়-রোজগারের জন্য।

 

আক্কাস আলীর বয়স ৭০ পেরিয়েছে। সাতজনের সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। চার মেয়ের তিনজনকে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট ছেলে ও মেয়ে স্কুলে পড়ে। তাঁরা শেরপুরে তাঁর গ্রামের বাড়িতে থাকেন। সপ্তাহ শেষে তাঁদের জন্য বিকাশে দুই হাজার টাকার মতো পাঠান তিনি।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় কথা হয় তাঁর সঙ্গে। গায়ে সবুজ মলিন শার্ট, পরনে লুঙ্গি। তিনি থাকেন তেজকুনীপাড়ায় একটি মেসে।

সংসদে বাজেট পেশ হয়েছে বলে এক যাত্রীর কাছে শুনেছেন উল্লেখ করে আক্কাস আলী বলেন, ‘শুনছি অনেক ট্যাকার বাজেট দিছে। আমি জিগাইলাম, এইডা কি আমার মতো মানুষের কোনো কামে লাগব? উনি খালি হাসলেন।’

 

আক্কাস আলী বললেন, ‘হাঁটুতে ব্যথা। চোখে ছানি পড়ছে। ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সাহস হয় না, ফি দেওয়ার টাকা নেই।’

 

বাজেট কেমন হলো জিজ্ঞেস করতেই আক্কাস আলী বলেন, ‘বাজেট আসে, বাজেট যায়, আমাগো কিচ্ছু হয় না। আমরা গরিব মানুষ কষ্টে আছি। আমাগো তো কোনো উন্নতি নাই। জিনিসপত্রের দাম বাড়তাছে, ওষুধের দাম বাড়তাছে। আমার ভাড়া তো বাড়ে না। মানুষ কয়, ভাই একটু কম নেন। আমি কার কাছে কম নিতে কইমু?’

চিনির দাম বাড়লে আর লাভ থাকে না’

 

রাজধানীর কুড়িল সড়কের পাশে রেললাইন ঘেঁষে ছোট্ট টং দোকানে বসে ছিলেন ফরিদা বেগম। বয়স ৫০-এর কাছাকাছি। ১৬ বছর ধরে এখানে চা বিক্রি করেন তিনি। জামালপুরের ইসলামপুর থেকে আসা এই নারীর স্বামী বছর দেড়েক আগে অসুস্থ হয়ে মারা যান। এখন মেয়ের সঙ্গে কুড়িল এলাকার যমজ রোডে ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি। ছেলে বিয়ে করে আলাদা থাকে, মায়ের দেখাশোনা করে না।

 

ফরিদা বেগমের হাতে চায়ের কেটলি। পাশে মুঠোফোন বাজছে। সেখান থেকে ভেসে আসছে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ধারাভাষ্য। অর্থমন্ত্রীর গলার স্বর, সংখ্যার পর সংখ্যা—কোটি, হাজার কোটি, লাখ কোটি টাকা। ফরিদা বেগম কান পাতেন একটু। তারপর চোখ সরিয়ে নেন। বললেন, ‘এই সব বুঝি না। খালি বুঝি চিনির দাম বাড়লে আর লাভ থাকে না।’

 

ফরিদা বেগম গতকাল বিকেলে এক কেজি চিনি কিনেছিলেন ১২০ টাকায়। গ্যাসের দাম বেড়েছে বলে উদ্বিগ্ন তিনি। বলেন, ‘জিনিসপত্রের দাম কম থাকলে একটু ভালো থাকতাম। বাজেটে কী আছে, সেইডা আমি জানি না। কিন্তু বছর-বছর যা দেখি, দামই বাড়ে, আমার আয় তো আর বাড়ে না। সরকার যদি আমাগো জন্য জিনিসপত্রের দামডা একটু কমাইয়া দিত, তাইলেই চলতে সুবিধা হইত। আমাগো চলতে খুব কষ্ট হয়

সরকারের আমাগো কথা মনে থাকে না’

 

তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনের ফুটপাতে কসমেটিক সামগ্রী সাজিয়ে বসেছেন জাহাঙ্গীর আলম। কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে আসা এই মানুষ রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে প্রতিদিন এখানে বসেন। ক্রেতার জন্য অপেক্ষা করেন। বাজেটের কথা তুলতেই একটু নড়েচড়ে বসলেন। বললেন, ‘সরকারের আমাগো কথা মনে থাকে না। ভোটের আগে একটু মনে পড়ে, ভোট শেষ হইলেই আর কেউ খোঁজ নেয় না।’

 

শেরপুরের শ্রীবরদী থেকে আসা আবুল বাশারের বয়স ৪৮। রাজধানীর জোয়ার সাহারা বাজারে মূল সড়কের পাশে ফুটপাতে সবজি বিক্রি করেন তিনি। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন কিছুদিন আগে। ছোট ছেলে বেকার, ঘরে বসে আছে। সংসার চলে কীভাবে—জিজ্ঞেস করলে একটু চুপ করে থাকেন। বাজেটের কথা উঠতে আবুল বাশার বললেন, ‘বাজেট দিলেই কী, না দিলেই কী। আমাগো তো কাম কইরাই খাইতে হইব। জিনিসপত্রের দামডা কম থাকলেই আমরা একটু ভালো থাকতাম।’

 

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ভ্যানে করে বিভিন্ন দোকানের মালামাল আনা-নেওয়ার কাজ করেন ভ্যানচালক ফারুক হোসেন। বয়স ৫০। তাঁর স্ত্রী ও সন্তানেরা থাকেন ভোলার চরফ্যাশনে। ফারুক হোসেনের পাঁচ সন্তানের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে, বাকিরা স্কুলে পড়ে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। ফারুক হোসেন বলেন, ‘পোলাপান পড়ালেখা করে, ওদের লাইগা টাকা পাঠাইতে হয়। সরকার বাজেট দিছে শুনছি। কিন্তু এইডা দিয়া আমাগো কী হইব, বুঝি না। সবকিছুরই তো দাম বেশি। আমাগোই বেশি ট্যাকা দিয়া সব কিনতে হয়।’

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD