1. [email protected] : dailynayakontho :
  2. [email protected] : nayakantho3941 :
  3. [email protected] : nayakontho :
  4. [email protected] : unikbd :
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন

সড়কে কাদা-মাটির ফাঁদ, বালিয়াকান্দিতে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা

  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
  • ৩৭ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বার মল্লিকা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক এখন যেন ইটভাটার মাটির ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। রাবেয়া অ্যান্ড ব্রিকস্ ইটভাটার মাটিবাহী ট্রাক ও ট্রলির কারণে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে কাদা-মাটি। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন হাজারো মানুষ।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইটভাটার গাড়ি থেকে নিয়মিত মাটি পড়ে সড়কজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে ধুলাবালি ও পিচ্ছিল কাদা। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। মোটরসাইকেল, ভ্যান, ইজিবাইকসহ ছোট যানবাহন প্রায়ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এতে গর্ভবতী নারী, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।

 

রবিবার (১০ মে) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাবেয়া অ্যান্ড ব্রিকস্ ইটভাটার সামনের সড়কে ছড়িয়ে রয়েছে মাটির স্তূপ। কোথাও শুকনো ধুলাবালি, আবার কোথাও বৃষ্টির পানিতে তৈরি হয়েছে পিচ্ছিল কাদা। ফলে সড়কটি এখন কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

স্থানীয় চালক আজগার বলেন,

“মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে। বৃষ্টি হলে অবস্থা আরও খারাপ হয়। মোটরসাইকেল পিছলাইয়া পড়ে যায়। আমরা চাই, এই রাস্তায় যেন আর মাটি না পড়ে।”

যাত্রী মিতুল বলেন,

“বৃষ্টি নামলে এই রাস্তা দিয়ে যাওয়া যায় না। রাস্তা কাদায় ভরে যায়। চলাচল করতে গেলেই ভয় লাগে।”

ভ্যানচালক আবু বক্কর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

“ইটভাটার গাড়ি মাটি ফেলতে ফেলতে আনে। পুরো রাস্তার অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। দ্রুত রাস্তা পরিষ্কার করা দরকার।”

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফরিদ মণ্ডল বলেন,

“ধুলাবালি আর কাদার কারণে মানুষের চলাফেরা কষ্টকর হয়ে গেছে। মানুষ এক্সিডেন্ট করে মরবে। আমরা চাই রাস্তাটা নিরাপদ করা হোক।”

স্থানীয়রা জানান, বালিয়াকান্দি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ এই সড়কটি। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবী ও রোগীবাহী যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিন ধরে ইটভাটার দৌরাত্ম্যে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

 

দায় স্বীকার করে রাবেয়া অ্যান্ড ব্রিকস্-এর প্রোপ্রাইটর মো. নাসির উদ্দিন বলেন,

“কয়েকদিন ধরে এ ধরনের সমস্যা হয়েছে। আগামীকাল থেকে ঠিক করে ফেলবো। শ্রমিক কম থাকায় আজ পরিষ্কার করা যায়নি।”

ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহন রায়হান বলেন,

 

“বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। চলাচলের অযোগ্য পরিবেশ হলে ইটভাটা কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।”

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন,

“ইটভাটার মাটি রাস্তায় পড়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে এলাকাবাসীর দাবি, শুধু আশ্বাস নয়—দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। নিয়মিত সড়ক পরিষ্কার, মাটিবাহী গাড়ি ঢেকে পরিবহন নিশ্চিত করা এবং দায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের হুঁশিয়ারি, দ্রুত সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন তারা।

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD