
স্টাফ রিপোর্টার: রিমন হোসেন
টনসিল অপারেশনের দুই ঘণ্টার মধ্যে তাশরিফা নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ২৫ জুলাই শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মির্জাপুর উপজেলা সদরের মডার্ন ক্লিনিকে এই ঘটনা ঘটে। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তাশরিফা (৯) দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের পাচুটিয়া গ্রামের পারভেজ মিয়ার মেয়ে।
জানা গেছে, তাশরিফার টনসিল অপারেশনের জন্য শুক্রবার সকালে মডার্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। ২৫ মিনিট পর সেখান থেকে তাকে সিটে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর শিশুটি ছটফট করতে থাকলে পরিবারের লোকজন নার্সদের ডাকেন। নার্স বলেন, এটা কোনো সমস্যা না। অবস্থা অবনতির দিকে গেলে আবারও নার্সদের ডাকা হয়। তারা এসে কুমুদিনী হাসপাতালে নিতে বলেন। তখন শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কুমুদিনী হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে শিশুটিকে আবার মডার্ন ক্লিনিকে আনা হয়। এ সময় ক্লিনিকের চিকিৎসক ও নার্স কাউকে পাওয়া যায়নি। সন্ধ্যা ৬টার দিকে মডার্ন ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, ক্লিনিকের পরিচলকরা হাসপাতালের বাইরে এবং চিকিৎসক ও নার্স সবাই গা-ঢাকা দিয়েছেন। শিশুটির স্বজন এবং স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হলে একজন চিকিৎসক এবং দুজন নার্স আসেন। পরে শিশুটিকে অক্সিজেন দেন ও ইসিজি করেন। রাত ৮টা পর্যন্ত ওই ক্লিনিক থেকে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা বা ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি।
শিশুটির অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহ জানান, অপারেশন সফল হয়েছে। অজ্ঞানজনিত কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে।
শিশুটিকে অ্যানেসথেশিয়া দেওয়া চিকিৎসক সাইফ আব্দুল্লাহর ভাষ্য, অ্যানেসথেশিয়ায় কোনো ত্রুটি থাকলে রোগীর জ্ঞান ফিরবে না। শিশুটির জ্ঞান ফিরেছিল। তিনি রোগীর সঙ্গে কথা বলেছেন। কোন চিকিৎসক অস্ত্রোপচার করেছেন তা জানতে চাইলে ক্লিনিকের পরিচালক মোস্তফা মিয়া একেক সময় একেক চিকিৎসকের নাম বলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। রিপোর্ট পাওয়ার পর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।