1. [email protected] : dailynayakontho :
  2. [email protected] : nayakantho3941 :
  3. [email protected] : nayakontho :
  4. [email protected] : unikbd :
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৬:৪৫ অপরাহ্ন

বিনা বেতনে ২০ বছর চাকরি শিক্ষক মামুনের

  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০২৫
  • ২৭৭ বার পঠিত

 

ছাইদুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁঃ

নওগাঁর ধামইরহাটে ২০ বছর ধরে বেতন না পেয়ে হতাশা আর বিনা চিকিৎসায় গত রোববার রাতে ধামইরহাট টেকনিক্যাল বিজনেস ম্যানেজম্যান্ট কলেজের এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনেরা জানান।তাঁর নাম আসাদুজ্জামান (মামুন) । তিনি উপজেলার রামনারায়নপুর গ্রামের মৃত্যু আব্বাস আলীর ছেলে।

শিক্ষক মামুনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মামুন উপজেলার ধামইরহাট টেকনিক্যাল বিজনেস ম্যানজম্যান্ট কলেজে ২০০৫ সালে প্রদর্শক পদে যোগদান করেন । কিন্তু এত বছরেও প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্ত না হওয়ায় তিনি বেতন না পাওয়ায় হতাশা আর জটিল রোগে ভুগতেন। অবশেষে পারিবারিক ভাবে চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পারায় তাঁর স্ট্রোক হয়। ফলে পারিবারিক ভাবে সে আরো ভেঙ্গে পড়ে।গত রবিবার রাতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান যুবক বয়সে শিক্ষক মামুন। আজ ১৬ জুন সোমবার সকাল ১১টায় তার নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় তার নিজ গ্রাম রামনারায়নপুর গ্রামে।
ব্যক্তি জীবনে তিনি ২কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জন কারীকে হারিয়ে পরিবার সহ সন্তানেরা কি করবে এৃন প্রশ্ন মৃত্যুের স্বজনদের।
কথা হয় ধামইরহাট টেকনিক্যাল বিজনেস ম্যানেজম্যান্ট কলেজের অধ্যক্ষ মো,হারুন অর রশিদ এর সঙ্গে, অধ্যক্ষ বলেন অত্র প্রতিষ্ঠান ধামইরহাট মেইন সদর থেকে মাত্র ১কি,মি দক্ষিনে অবস্থিত। স্থাপিত হয় ২০০১, স্বীকৃতি পায় ২০০৪ সাল। শুরুতেই প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয় ধামরহাট শহীদ জিয়া টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই ১৪ জন শিক্ষক কর্মচারী মিলে শুরু এই প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন বেতন ভাতা না পাওয়ায় ইতিমধ্যে দুইজন শিক্ষক অন্যত্র চাকরির সন্ধানে চলে গিয়েছে। আজকে মামুন সহ দুইজন মৃত্যুবরণ করল।
শহীদ জিয়া নাম থাকায় দীর্ঘ দিন এমপিও ভুক্ত না হওয়ায় অবশেষে ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠানের নাম করন করা হয় ধামইরহাট টেকনিক্যাল বিজনেস ম্যানজম্যান্ট কলেজ,কিন্তু বিগত সরকারের চোখে অত্র প্রতিষ্ঠান শহীদ জিয়া নাম হিসাবে আখ্যায়িত হওয়ার দরুন বার বার দেশের অন্য প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্ত হলেও অজ্ঞাত কারণে এ প্রতিষ্ঠানটি এমপি ভুক্ত করা হয়নি। অথচ সরকারের নির্ধারিত ছাত্র-ছাত্রী বরাবরই বিদ্যমান অত্র প্রতিষ্ঠানে। ফলাফল বোর্ড নির্ধারিত হারে আছে। দীর্ঘদিন এমপি ভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে অনেহা।

এমপিও ভুক্ত সম্পর্কে জগদল আদিবাসী স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মো,ইলিয়াস আলম বলেন দীর্ঘ দিন
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও (MPO) ভুক্ত না হওয়ার আগেই যদি কোনো শিক্ষক মারা যান, তবে এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা। এমপিও (MPO) বলতে “মান্থলি পে অর্ডার” বোঝায়, যা দ্বারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়। যখন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্ত হয়, তখন সেখানকার শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকার থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্ত না হয়, তাহলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিজেদেরই জোগাড় করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে, শিক্ষকের মৃত্যু হলে তার পরিবার আর্থিক সংকটে পড়তে পারে।
এমপিও (MPO) ভুক্ত না হওয়ার কারণে শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন-ভাতা পান না, যা তাদের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তোলে। অনেক সময়, এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করার পরেও দীর্ঘ সময় লেগে যায়, এবং এই সময়ের মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীরা নানা সমস্যা সম্মুখীন হন। যদি কোনো শিক্ষক এমপিওভুক্ত হওয়ার আগেই মারা যান, তবে তার পরিবার সরকারের কাছ থেকে কোনো আর্থিক সহায়তা পায় না। এটি একটি বড় সমস্যা যা শিক্ষাখাতে কর্মরত অনেকের জীবনকে প্রভাবিত করে।
এই সমস্যা সমাধানের জন্য, সরকারের উচিত দ্রুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার ব্যবস্থা করা, যাতে শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন-ভাতা পান এবং তাদের পরিবার আর্থিক নিরাপত্তা পায়। এছাড়াও, এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন।
যদি কোনো শিক্ষক এমপিওভুক্ত হওয়ার আগে মারা যান, তবে সরকারের উচিত তার পরিবারের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করা। এতে করে শিক্ষকের পরিবার কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে।

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD