
ইমদাদুল হক রানা বালিয়াকান্দী প্রতিনিধিঃ
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দী উপজেলার প্রাণকেন্দ্র, তথা জিরো পয়েন্ট, বর্তমানে বেহাল অবস্থার কারণে এলাকাবাসীর ক্ষোভের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে বসানো মাইলস্টোনটির চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে নোংড়া আবর্জনা, দোকানদাররা যেন ডাস্টবিন বা ময়লা ফেলার স্হান বনিয়ে ফেলেছে। মাইলস্টোনটি উপরিভাগে রাখা হয়েছে নোংরা ছালা পাশে ফেলা হয়েছে আবর্জনা —যা শুধু দৃষ্টিকটুই নয়, বরং পরিবেশের জন্যও মারাত্মক হুমকি সরুপ ।প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন, যার মধ্যে রয়েছে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সাধারণ জনগণ, অথচ চোখের সামনে এমন নোংরা পরিবেশ দেখে অনেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
জিরো পয়েন্টটি উপজেলার চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মিলনস্থলে অবস্থিত যা বালিয়াকান্দী চৌরাস্তা নামে পরিচিত।চারটি রাস্তায় সব সময় যত্রতত্র অটোরিকশা, ভ্যান, রিকশা, মাহেদ্র, সিএনজি, দাঁড় করিয়ে রেখে যাত্রী তোলা হয, যেন অঘোষিত ভ্যান, রিক্সা অটো টার্মিনাল ফলে যানজট লেগেই থাকে। মুমূর্ষরোগী নিয়ে হাসপাতালগামী রোগীবাহী গাড়িগুলোর দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন এটা চার রাস্তার সংযোগ স্থল ব্যস্ত সরক প্রশস্ত না হওয়ায় এখানে যানজট লেগেই থাকে , “তারউপর এখানে দিনের পর দিন জিরো পয়েন্টের পাশে ময়লা ফেলে, ময়লা পড়ে থাকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। কখনো পরিষ্কার করে কখনো দিনের পর দিন পড়ে থাকে। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নাক চেপে ধরতে হয়। এটা কি একটা উপজেলা কেন্দ্রস্থল?”
সাংবাদিক জয়লান আবেদিন বলেন এটি বালিয়াকান্দী উপজেলার দীর্ঘ দিনের সমস্যা নিত্য দিন এখানে যানজটের মত জনদুর্ভোগ লেগেই থাকে। উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে নজর দিলে সমস্যার সমাধান হওয়া সম্ভব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা বিষয়টি জানি, তবে উপজেলার দায়িত্বে যারা আছেন, তাদেরই এটি তদারকি করার কথা।”
স্হানীয় বাসিন্দা, সভাপতি বিএনপি বালিয়াকান্দী উপজেলা শাখা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, গোলাম শওকত সিরাজ সহ, স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, জিরো পয়েন্টের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। শুধু মাইলস্টোন স্হাপন নয়, বরং একটি নান্দনিক ডিজাইনে গড়ে তোলা হোক কেন্দ্রস্থলটিকে—যাতে এটি হয়ে ওঠে এলাকার পরিচয় বহনকারী একটি স্থাপনা।
এ বিষয়ে বালিয়াকান্দী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন জায়গাটি পরিদর্শন সাপেক্ষে প্রয়োজনীর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী জানায়, “আমরা চাই জিরো পয়েন্টে যেন এমন একটি স্থাপনা হয় যা হবে সত্যিকারের একটি ‘শূন্য’ থেকে উন্নয়নের ‘শিখরে’ পৌঁছার প্রতীক, অনুপ্রেরণার প্রতিক —পরিচ্ছন্ন, গর্বিত ও গর্বের স্থান হিসেবে দেখতে চাই।”