
শহিদ শামসুজ্জোহা ও নূরুল ইসলাম স্মরণে আলোচনা সভা।
মুরাদ হোসেন গোদাগাড়ী প্রতিনিধি, রাজশাহী
১৮ ই ফেব্রুয়ারি শহীদ ড: জোহা দিবসকে জাতীয়ভাবে শিক্ষক ছাত্র দিবস হিসেবে পালন করার ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে।
বিভাগীয় প্রেসক্লাব রাজশাহী ও জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ড: শামসুজ্জোহা ও নুর ইসলাম স্মরণে আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪ টায় বিভাগীয় প্রেসক্লাব রাজশাহীর মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ ও বিভাগীয় প্রেসক্লাব রাজশাহীর সভাপতি ভাষাসৈনিক পরিবারের সদস্য সিনিয়র সাংবাদিক সাইদুর রহমান।
বিভাগীয় প্রেসক্লাব রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক এসএম আব্দুল মুগনী নীরোর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড আবুল কালাম আজাদ। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজাহান আলী বোরজাহান।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. আসলাম-উদ-দৌলা, জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন মিন্টু, জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের উপদেষ্টা মাসুদ রানা সরকার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শফিকুর রহমান রিপন, মানবাধিকার কর্মী মো মোস্তফা কামাল ইমন প্রকাশকালের চীফ রিপোর্টার শেখ রুমেল।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশে যে ভাঙচুরের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে তা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। অন্যথায় ধ্বংসকে ডেকে আনবে যা দেশের জন্য শুভ হবে না।
বক্তারা বলেন মামলা ও গ্রেপ্তার বাণিজ্যের কারণে নিরীহ নাগরিকরা যেন হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য আইজিপি মহোদয় কড়া নির্দেশ দিয়েছে। তদন্ত ছাড়া কাউকে যেন গ্রেপ্তার করা না হয় এবং নিরীহ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য পুলিশকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বক্তারা শহীদ জোহা ও নুরুল ইসলামের আদর্শকে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান।
আলোচনার শুরুতে ড. শামসুজ্জোহা ও নুরুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৬৯সালের এই দিনে পাকিস্তানি সেনা শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের এক পর্যায়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন গেটের সামনে অবরোধ করলে তাদের উপর হামলা ও গুলিবর্ষণ শুরু হয়। এই সময় ড: শামসুজ্জোহা ছাত্রদের রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁকেও গুলি করে ও বেয়োনেট চার্জ করে আহত করা হয়।
প্রতিবাদে শহরে বিভিন্ন কলেজের ছাত্ররা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং রাস্তায় মিছিল নিয়ে প্রতিবাদ জানালে তাদের উপরেও নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে করে রাজশাহী সিটি কলেজের ছাত্র নূরুল ইসলাম মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তৎক্ষণাত মৃত্যুবরণ করেন। পরে ড: শামসুজ্জোহা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।