
অসহায় শীতার্তদের পাশে তারুণ্য: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি সম্পন্ন
তারিকুল ইসলাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অরাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী ও জনকল্যাণমূলক সংগঠন ‘তারুণ্য’ শীতার্ত ও ছিন্নমূল শিশুদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি সম্পন্ন করেছে। শনিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসি চত্বরে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. ইয়াকুব আলী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তারুণ্যের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী। সংগঠনটির সভাপতি মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং রক্তদান কর্মসূচি সম্পাদক মো. আহসান হাবিব ও নবীন পথিক ঐশ্বর্য আহমেদের সঞ্চালনায় এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান, সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ তাবরিজ খান, সদ্য সাবেক সভাপতি মো. মারুফ হোসেন, সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিফাত মাশরাফি প্রত্যয়সহ বর্তমান ও সাবেক সদস্যরা। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে প্রায় ১৩০টি পরিবারের মাঝে কম্বল ও চাদর এবং ৩০ জন ছিন্নমূল শিশুর মাঝে শীতের কাপড় বিতরণ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. ইয়াকুব আলী বলেন,
দেশ গঠনে তারুণ্যের ভূমিকা অসীম। তরুণ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমাজে পরিবর্তন আনা সম্ভব। তারুণ্যের এমন মানবিক কার্যক্রম আমাদের অনুপ্রাণিত করে। আমি সর্বদা এমন মহতী উদ্যোগে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
সংগঠনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী বলেন,
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তারুণ্য অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের ধারাবাহিকতা ও উদ্যম দেখে আমি গর্বিত। আশা করি, তাদের এ ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তারুণ্যের সাধারণ সম্পাদক ফাবিহা বুশরা বলেন,
কুয়াশাচ্ছন্ন শীত অনেকের জন্য আনন্দের বার্তা হলেও সমাজের নিম্নশ্রেণির মানুষের জন্য তা আতঙ্ক। শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এ বছর প্রায় দেড় শতাধিক পরিবারকে সহায়তা করতে পেরে আমরা গর্বিত।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন,
তারুণ্যের শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এই মহতী উদ্যোগ বাস্তবায়নে যারা অর্থ ও শ্রম দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাব।
মানবিক দায়িত্ববোধ এবং স্বেচ্ছাসেবার মাধ্যমে তারুণ্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শীতার্তদের মাঝে উষ্ণতা ছড়িয়ে দেওয়ার এ প্রচেষ্টায় তারা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা অন্যদের জন্য প্রেরণা হতে পারে।