
রাজশাহী ব্যুরোঃ
বাংলাদেশে জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চা ও বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে এবং রাজশাহী অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের ব্যবস্থাপনায় ২১তম ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি অ্যাস্ট্রো-অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর রাজশাহী আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা আজ রাজশাহী কলেজের কলা ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রতিযোগিতায় রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। জুনিয়র (১৪-১৫ বছর) ও সিনিয়র (১৬-১৮ বছর) এই দুই বিভাগে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা জ্যোতির্বিজ্ঞান, মহাকাশবিজ্ঞান এবং বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নের মুখোমুখি হোন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে সিনিয়র গ্রুপ থেকে ১০ জন এবং জুনিয়র গ্রুপ থেকে ১০ জন মোট ২০ জন কে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে নির্বাচিত ও অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীদের সার্টিফিকেট ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশিক মোসাদ্দিক। তিনি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চা, গবেষণামুখী চিন্তা এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী এ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের সম্পাদক আননাবা কবীর প্রকৃতি, বাংলাদেশ এ্যাস্ট্রোনমিক্যাল এসোসিয়েশন ঢাকা টিমের সাধারণ সম্পাদক জসিমউদ্দিন অর্ণব, অ্যাস্ট্রো-অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক আয়োজক কমিটি রাজশাহীর সদস্য সচিব মোঃ হাসিবুল হাসনাত রিজভিসহ প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জ্যোতির্বিজ্ঞান শুধু মহাকাশ সম্পর্কে জানার সুযোগই তৈরি করে না, বরং শিক্ষার্থীদের যুক্তিবাদী চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং বৈজ্ঞানিক মনন বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে এ ধরনের বিজ্ঞানভিত্তিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
অলিম্পিয়াড আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক আতিকুর রহমান আতিক বলেন, “অ্যাস্ট্রো-অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চার আগ্রহ সৃষ্টি, অনুসন্ধিৎসু ও উদ্ভাবনী প্রজন্ম এবং বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠন করাই আমাদের লক্ষ্য। রাজশাহীর শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে, আমরা চাই রাজশাহীর শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মহাকাশবিজ্ঞান চর্চায় আরও এগিয়ে যাক। আজকের অংশগ্রহণকারীরাই আগামী দিনের বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবক এই বিশ্বাস থেকেই আমাদের এ আয়োজন। ভবিষ্যতেও বিজ্ঞানকে মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দিতে এবং তরুণদের গবেষণামুখী করে তুলতে রাজশাহী অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাবে।”
রাজশাহী অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টার এই অলিম্পিয়াড আয়োজনে সহযোগিতা প্রদানকারী রাজশাহী কলেজ, শিক্ষকবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক, অভিভাবক এবং অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত প্রতিযোগীদের জন্য শুভকামনাও জানানো হয়েছে।