
মো. শারীদ মোল্লা, নয়া কণ্ঠ ডেস্কঃ
মাদকাসক্তির ভয়াবহ বিস্তার রোধ এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের করালগ্রাস থেকে রক্ষা করতে সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার পদমদি ঘোনারঘাট আঞ্চলিক মাদকবিরোধী সংগঠনের উদ্যোগে এক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১২ জুলাই) বিকেলে জেসিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা মো. জাহিদ মোল্লা। সভা সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুর রব তালুকদার বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ এবং পুরো জাতির ভবিষ্যৎকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদক নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বাদশা আলমগীর বলেন, তরুণদের সঠিক পথে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই। যুবসমাজকে খেলাধুলা, সৃজনশীল ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা গেলে মাদকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মো. গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন, “মাদক একটি নীরব ঘাতক, যা তরুণ সমাজের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এই ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি এলাকাবাসী, অভিভাবক, শিক্ষক এবং যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রতিটি পরিবার ও প্রতিটি মহল্লায় মাদকবিরোধী সচেতনতা গড়ে তুললেই একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।”
সভায় আরও বক্তব্য দেন ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেন খান, নবাবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, মো. এম. এ. কুদ্দুস শেখ, নবাবপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. কাবিল উদ্দিন এবং কৃষকদলের সভাপতি মো. শাজাহান মিয়া।
বক্তারা বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে শুধু আইনগত ব্যবস্থা নয়, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি পরিবারভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি, তরুণদের নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা এবং সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সভার শেষে উপস্থিত সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকবিরোধী আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।