
শাহীন আলম নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজবাড়ীতে অর্থাভাবে চিকিৎসাবঞ্চিত কিডনি রোগী আছিয়া খাতুনের আকুতি।মাত্র তিন বছর বয়সী নাড়ীছেঁড়া ধন ‘জান্নাত’কে এতিম করে চলে যাওয়ার শঙ্কায় প্রতিটি মুহূর্ত আতঙ্কে কাটছে আছিয়া খাতুনের। মরণব্যাধি কিডনি রোগে দিন দিন নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে তার শরীরের শক্তি। কিন্তু চরম দারিদ্র্যের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও করাতে পারছেন না এই অভাগী নারী।
এক বুক আশা আর চোখভরা অশ্রু নিয়ে আছিয়া খাতুন আজ সবার কাছে একটাই আকুতি জানাচ্ছেন— “আমি বাঁচতে চাই। আমার ছোট্ট বাচ্চাটার জন্য হলেও আমাকে বাঁচান।রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের সোনাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা আছিয়া খাতুন। কয়েক বছর আগে পাশের গ্রামের দিনমজুর রাকিব মোল্লার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসার জুড়ে আলো হয়ে এসেছে তিন বছর বয়সী একমাত্র কন্যা জান্নাত।
কিন্তু চলতি বছরের শুরুতেই কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানার পর, সুখের সেই সংসারে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। দিন যত গড়াচ্ছে ততই বাড়ছে আছিয়ার শারীরিক যন্ত্রণা।
চিকিৎসকরা দ্রুত ও নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও, অর্থাভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে তার চিকিৎসার পেছনে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৫ হাজার টাকার প্রয়োজন। যা দিনমজুর স্বামী ও বাবার পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।চোখের সামনে তিলে তিলে শেষ হয়ে যাওয়া মেয়েকে বাঁচাতে বাবা লতিফ বিশ্বাস ও মা জোহরা খাতুন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। মেয়েকে সুস্থভাবে বাঁচাতে মানুষের কাছ থেকে ধারদেনা এবং সাহায্য চেয়েও তারা আর কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। এ অবস্থায় সন্তানকে বাঁচাতে সরকারসহ সমাজের বিত্তবানদের কাছে আর্থিক সহযোগিতার জন্য আবেদন জানান আছিয়ার পরিবার।রাজবাড়ী জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু সাইদ মোহাম্মদ আলী আহসান জানান, সহায়তার জন্য আবেদনকারী রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হলেও বরাদ্দকৃত অর্থ তুলনামূলক কম। ফলে সব আবেদনকারীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই আছিয়া খাতুনের জীবন বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।