
রাজশাহী ব্যুরোঃ
গ্রামীনফোনের ১৬ বছরের আইনগত পাওনা পরিশোধে গড়িমসি, শান্তপূর্ণ শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশি বাধা,গভীর রাতে গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন করেছে গ্রামীনফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ। সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে নগরীর কাদিরগঞ্জে ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সামনে এই প্রতিবাদী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গ্রামীণফোনের হাজারো সাবেক কর্মকর্তা কর্মচারী গত ১৬ বছর ধরে তাদের আইনগত ৫ শতাংশ বিলম্বজনিত পাওনা থেকে বঞ্চিত। ২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকার মোবাইল ফোন অপারেটরদের Industrial undertaking হিসেবে ঘোষণা করার পর শ্রম আইন অনুযায়ী কর্মচারীরা Workers Profit Participation Fund (WPPF) ও Workers Welfare Fund ( WWF) এর আওতায় ৫ শতাংশ মুনাফা ভিত্তিক প্রাপ্য লাভের অধিকার অর্জন করেন।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গ্রামীণফোন সরকারি গেজেটকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট দায়েরের মাধ্যমে বছরের পর বছর কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা আটকে রেখেছে। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ৬ মার্চ প্রতিষ্ঠানটি নিজেই সেই রিট প্রত্যাহার করে নিলেও দীর্ঘদিন অর্থ আটকে রাখার ফলে শ্রম আইন অনুযায়ী সৃষ্ট বিলম্ব জনিত পাওনা আজও পরিশোধ করেনি।
তারা বলেন, বিলম্ব জনিত প্রত্যেকের পাওনার পরিমাণ প্রায় ৩৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা, যা প্রায় ৪ হাজার সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের ন্যায্য আইনগত অধিকার।
আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন, ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে সাবেক কর্মীরা ঢাকায় জিপি হাউজের সামনে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক কর্মসূচি পালন করে আসছে। কিন্তু গত ১৮ মাসে কাফনের কাপড় পড়ে প্রতীকী প্রতিবাদসহ বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হলেও গ্রামীণফোন আজ পর্যন্ত কোন কার্যকর সংলাপে বসেনি।
এদিকে ৩০ জুনের ঘটনাকে শ্রমিক আন্দোলনের উপর গুরুতর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করা করে বক্তারা বলেন, পূর্ব ঘোষিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বানচাল করার লক্ষ্যে ২৭ জুন দিবাগত রাত দুইটায় সাবেক কর্মী প্রিন্সকে তার বাসা থেকে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করানো হয়। এরপর সকালে গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয়ের আশেপাশে বিভিন্ন স্থান থেকে আরো ৬ জন সাবেক কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। এবং তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা এবং হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়। মানববন্ধন থেকে এ ঘটনা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
মানববন্ধন থেকে মূলত চারটি দাবি জানান বক্তারা, গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইনগত পাঁচ শতাংশ বিলম্ব জনিত পাওনা দ্রুত পরিশোধ নিশ্চিত করা, শান্তিপূর্ণ শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়রানি মূলক মামলা প্রত্যাহার এবং ভয়-ভীতি প্রদর্শন মূলক কর্মকান্ড বন্ধ করা, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিষ্পত্তির আগে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি অনুযায়ী কোম্পানির আর্থিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা ও গ্রামীণফোনকে আরও গ্রাহক বান্ধব, শ্রমিকবান্ধব ও জবাবদিহি মূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা ।
আজও তো মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোন পাঁচ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও সাবেক কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোরাদ হোসেন, সুফিনাজ বাসিতা নীতু,শাহরিয়ার মতিন, একরামুজ্জামান, জান্নাতুল ফেরদৌস, মোহাম্মদ আসিফ হোসেন, সামী উদ্দিন, আতাউস সালাম, মহিবুল হাসান প্রমূখ।