1. [email protected] : dailynayakontho :
  2. [email protected] : nayakantho3941 :
  3. [email protected] : nayakontho :
  4. [email protected] : unikbd :
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন

রাজবাড়ী-২ আসনের ভোটের মাঠে আ.লীগ-বিএনপির পালাবদলের ইতিহাস

  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬
  • ৪৩ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

রাজবাড়ী জেলার পাংশা, কালুখালী ও বালিয়াকান্দি উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ২১০ নম্বর আসন রাজবাড়ী-২।

 

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত।

 

স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ, প্রভাবশালী প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং জাতীয় রাজনীতির প্রভাব-সব মিলিয়ে প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই আলোচনায় থাকে রাজবাড়ী-২ আসন।

 

সময়ের পরিক্রমায় এ আসনে একাধিকবার ঘটেছে রাজনৈতিক পালাবদল। কখনও আওয়ামী লীগ, কখনও বিএনপি—আবার কখনও জাতীয় পার্টি কিংবা জামায়াতে ইসলামীও জয় তুলে নিয়েছে এই আসনে।

 

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত রাজবাড়ী-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৬ জন।

এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৪ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৭৪ হাজার ১৪৬ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৬ জন। ভোটার সংখ্যার দিক থেকেও এটি রাজবাড়ী জেলার অন্যতম বড় সংসদীয় আসন।

 

যেভাবে বদলেছে রাজনৈতিক নেতৃত্ব

 

১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির নাজির হোসেন চৌধুরী এ আসন থেকে নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে সম্মিলিত বিরোধী দলের প্রার্থী মুসলেম উদ্দিন বিজয়ী হয়ে আসনটিতে নতুন রাজনৈতিক বার্তা দেন।

 

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় রাজবাড়ী-২ আসনে বিজয়ী হন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এ কে এম আসজাদ। সে সময় বহুদলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে ভোটের মাঠে ছিল ব্যাপক প্রতিযোগিতা।

 

এরপর ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির খোন্দকার ছদরুল আমিন হাবিব সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে একই বছরের জুন মাসে অনুষ্ঠিত আরেকটি নির্বাচনে পাল্টে যায় রাজনৈতিক দৃশ্যপট। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ জিল্লুল হাকিম বিজয়ী হয়ে আসনটি নিজেদের দখলে নেন।

 

বিএনপি-আ.লীগের পাল্টাপাল্টি দখল

 

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী নাসিরুল হক সাবু বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে আসনটি পুনরুদ্ধার করেন। সে সময় সারাদেশের মতো রাজবাড়ী-২ আসনেও বিএনপির পক্ষে শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছিল।

 

তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আবারও পরিবর্তন আসে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিল্লুল হাকিম বড় ব্যবধানে জয় পেয়ে আসনটি পুনরায় দখলে নেন। এরপর টানা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে থাকে রাজবাড়ী-২ আসন।

 

২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর নির্বাচন বর্জনের কারণে মোহাম্মদ জিল্লুল হাকিম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তিনি রাজনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থান ধরে রাখেন।

 

২০২৬ সালে আবারও পালাবদল ঘটে

 

দীর্ঘ সময় পর ২০২৬ সালের নির্বাচনে আবারও রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে রাজবাড়ী-২ আসনে। বিএনপির প্রার্থী হারুন অর রশিদ হারুন বিজয়ী হয়ে আসনটি পুনরুদ্ধার করেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর আবারও বিএনপির ঘরে ফিরে যায় রাজবাড়ী-২ আসন।

 

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজবাড়ী-২ আসনের ভোটের ফলাফল অনেক সময় জাতীয় রাজনীতির পরিবর্তনেরও প্রতিফলন ঘটায়।

পাংশা, কালুখালী ও বালিয়াকান্দির ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থান, স্থানীয় নেতৃত্বের প্রভাব এবং দলীয় সাংগঠনিক শক্তিই মূলত নির্ধারণ করে এ আসনের নির্বাচনী ফলাফল।

 

সব মিলিয়ে, রাজবাড়ী-২ আসন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD