
মোঃ মুরাদ হোসেন গোদাগাড়ী প্রতিনিধি, রাজশাহীঃ
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাসুদেবপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের এক মায়ের হৃদয়বিদারক আবেদন সামাজিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোড়ন তুলেছে। মোসাঃ খালেদা বেগম নামের ওই বৃদ্ধা নারী তার মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। ছেলেকে মাদকসেবন থেকে বিরত রাখতে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি।
আবেদনে মোসাঃ খালেদা বেগম জানান, তার ছেলে মোঃ ফিরোজ কবির (৩২) দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মাদক গ্রহণ করে বাড়ি ফিরে সে মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রায়শই মারধর করে। কখনো হাসুয়া হাতে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করে। টাকা না পেলে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং জিনিসপত্র বিক্রি করে মাদকের জোগান নিশ্চিত করে।
তিনি আরও জানান, ফিরোজ কবিরের অত্যাচারে তার স্ত্রী সন্তানসহ পিতার বাড়ি পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে ছেলের স্ত্রী সন্তানসহ তার (খালেদা বেগম) আশ্রয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছে। মাদকাসক্ত ছেলে জোর করে মায়ের নামে ঋণ তুলে নিলেও তার কোনো দায়ভার নেয় না। এলাকাবাসীর মধ্যস্থতায় বহুবার বোঝানো হলেও ফিরোজকে মাদক ছাড়ানো যায়নি।
তিনি ১৮ জুন (বুধবার) ইউএনও বরাবর দেওয়া আবেদনে বলেন, “আমার ছেলে বর্তমানে আরো বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। আমাদের জীবন এখন আতঙ্কে কেটে যাচ্ছে। আমি চাই, তাকে জেল হাজতে রাখা হোক, যেন সে কিছুদিন মাদকমুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে এবং সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে পারে।”
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফয়সাল আহমেদ বলেন, গোদাগাড়ী মাদক প্রবণ এলাকা। আমি এ-ই উপজেলায় আসার পর মাদক নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছি। বিভিন্ন সময়ে মাদক উদ্ধার ও মাদক দেবীদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করছি। মাদক হতে দূরে থাকতে ও সচেতনতার জন্য আমি পুরো উপজেলা জুড়ে ৯টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার ওয়ার্ড ভিত্তিক স্পোর্টিং ক্লাব গঠন করেছি। যাতে যুব সমাজ মাদক হতে দুরে থেকে খেলাধুলায় মনোযোগী হয়ে।
তিনি আরো বলেন, মাদকের ভয়াবহতায় কতটা হলে একজন মা তার নিজ সন্তানকে জেলে পাঠানোর জন্য আসে আমি তা উপলব্ধি করতে পারছি। ও-ই মায়ের লিখিত অভিযোগটি আমি পড়েছি ও সরাসরি কথা বলেছি। আমি আমার জায়গা হতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশনা দিয়েছি এবং আমিও নিজে এ-ই বিষয়ে তৎপর আছি। আশাকরি মাদকসবীর বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা হয়ে যাবে।