
ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাবি ছাত্রদলের মানববন্ধন
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, রাবি:
দেশব্যাপী নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, নিপীড়ন, ধর্ষণ, অনলাইনে হেনস্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক অবনতি ও বিচারহীনতার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদল।
সোমবার (১০ মার্চ) দুপুর ১২টায় সর্দার রাশেদ আলীর সঞ্চালনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন সংলগ্ন প্যারিস রোডে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এসময়, ‘ধর্ষকরা নিপাত যাক, নারী সমাজ মুক্তি পাক’, ‘ধর্ষকদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’, ‘ধর্ষণকারী নরপিশাচ, আমরা করব তার বিনাশ’, ‘বোন তোমার ভয় নাই রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘তুমি কে আমি কে,
আছিয়া আছিয়া’, ‘হয় ধর্ষকের ফাঁসি দে, নইলে গদি ছাইড়া দে’ ব্যানার-ফেস্টুনের মাধ্যমে এসব স্লোগান তুলে ধরেন তারা।
মানববন্ধনে সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিন বিশ্বাস ইশা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এসেও যেখানে মেয়েদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত, সেখানে এখন মেয়েদের অধিকার, মেয়েদের ধর্ষণ, মেয়েদের সাইবার বুলিং’র মতো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এ দেশে যদি আমরাই নিরাপদ না থাকি তাহলে দেশের জন্য আমরা কী কাজ করবো? মেয়েরা এখন কোথাওও নিরাপদ না। একটি শিশুকেও ছাড়া হচ্ছে না। তাকেও ধর্ষঙ এবং যৌন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। আমরা চাই এই সব ধর্ষণ, হয়রানি, সাইবার বুলিং যত তারাতারি সম্ভব রোধ করা হোক।
এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমানউল্লাহ আমান বলেন, ফ্যাসিস্ট শাসনামল ও বর্তমান শাসনামলের বিচার ব্যবস্থার মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখতে পাচ্ছি না। পার্থক্য শুধু একটি জায়গায় আগে হাসিনা শুধু মুজিব পরিবারের কথা বলতো আর এখন দূর্ভিসন্ধিমূলক কথাবার্তা বলে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা চলছে। জুলাই আগষ্টে সর্বস্তরের মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিলো দেশে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু আমরা তার বিপরীত চিত্র দেখতে পারছি। কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য মানুষ রক্ত দেয়নি। দেশে বিচার ব্যবস্থা শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে না আনতে পারলে বর্তমান সরকারের অবস্থা শেখ হাসিনার থেকেও ভয়াবহ হবে।
তিনি আরো বলেন, আছিয়ার ঘটনা মিডিয়াতে এসেছে তাই আমরা তার প্রতিবাদ করছি। কিন্তু এইরকম শত শত আছিয়া প্রতিনিয়ত ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অনুরোধ করব ধর্ষকদের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য যাতে আর কোনো কুলাঙ্গার ধর্ষণ করার সাহস না পায়।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ রাহীর সভাপতিত্বে এসময় ইউনিটের বিভিন্ন পর্যায়ের অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।