
রাবি শিক্ষকদের প্রথম দিনের সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন।
রাজশাহী ব্যুরো ঃ সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয় স্কিম’ প্রত্যাহারের দাবিতে প্রথম দিনের সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষকেরা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (১ জুলাই) বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবন সংলগ্ন প্যারিস রোডে ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান করেন তাঁরা।
কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ওমর ফারুক সরকার বলেন, আমরা বাংলাদেশের মানুষকে জানাতে চাই আমরা রাস্তায় নেমেছি। কর্মবিরতি মানে ঘরে বসে থাকা নয় আমরা রাস্তায় বসেছি। আমাদের আহ্বানে উপাচার্য স্যার একাত্মতা পোষণ করছেন। প্রত্যয় স্কিমের এই দায়িত্ব অর্থ মন্ত্রণালয় ব্যাতিত কেউ নিচ্ছে না। এই মন্ত্রণালয়ে যারা বসে আছেন তারাই কী সব? আমাদের কী স্পেশালিষ্ট নেই? আমাদের এর পরিবর্তে নতুন কিছু চিন্তা ভাবনা দরকার। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আলাদা বেতন কাঠামো উন্নত বিশ্বে সব জায়গায় আছে কিন্তু বাংলাদেশে নেই। পরিশেষে বলতে চাই এটা কোনো আন্দোলন নয় এটা আমাসের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
তিনি আরও বলেন, একটু খেয়াল করলে এখানের বৈষম্য দেখা যাবে আপনি যদি আজকে চাকরিতে জয়েন করেন আপনার বেতন থেকে ৫ হাজার টাকা কাটা হবে। যেটা আগে যারা জয়েন করেছে তাদের ক্ষেত্রে হবে না। তাহলে আর্থিক ক্ষতিটা কোথায় বোঝা গেল। এছাড়াও আজ যিনি পেনশন পান তিনি আমৃত্যু পাবেন তার মৃত্যু হলেও তার স্ত্রী পাবে যেটা তার সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তবে, এই নিরাপত্তা বলা ভেঙে ফেলা হচ্ছে। সুতরাং আমরা চাইনা এই প্রত্যয় স্কিম থাকুক।
কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন বকুল বলেন, আমরা দেখেছি যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক তারতম্য থাকে। আপনারা জানেন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি ঠিকঠাক মতো না চলে তাহলে জাতির জন্য অশনি সংকেত অপেক্ষা করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি মেধাবী শিক্ষার্থী না পায় তাহলে তারা কিভাবে শিক্ষা দান করবে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আনতে তাদেরকে এই পেশায় আকর্ষণ করাতে হবে। আর এ আকর্ষণ করতে আর্থিকভাবে সুবিধা প্রদান করতে হবে। আরো যত বেশি সুবিধা দেওয়া যায় সে চেষ্টা করতে হবে। আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতেও দেখেছি এ সুবিধা বেশ বেশি। কিন্তু বাংলাদেশে স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবি করেও বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা চাই এই অবস্থা পরিবর্তন আসুক। বিদেশ থেকে ইঞ্জিনিয়ার এনে বড় কিছু করা খুব ভালো উন্নয়ন না। এখানে শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়কে সুযোগ দিলে তারা এমন অনেক ইঞ্জিনিয়ার তৈরী করবে।
গতকাল রাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, আজ শুরু হওয়া এই কর্মবিরতি কর্মসূচিতে সকল বিভাগ, ইনস্টিটিউটের নিয়মিত ব্যাচের পাশাপাশি অনলাইন, সান্ধ্যকালীন, শুক্র ও শনিবারের প্রফেশনাল কোর্সের ক্লাশ ও সবধরনের লিখিত, মৌখিক ও ভর্তি পরীক্ষাসহ সকল পরীক্ষা বন্ধ থাকবে; বিভাগীয় অফিস, সেমিনার, কম্পিউটার ল্যাব ও গবেষণাগার বন্ধ থাকবে; একাডেমিক ও পরিকল্পনা কমিটি, প্রশ্নপত্র সমন্বয় ও অন্যান্য সভা বন্ধ, ভর্তি পরীক্ষাসহ ডিন অফিসের সকল কার্যক্রম বন্ধ ছাড়াও কোন সিলেকশন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে না; দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন শিক্ষক প্রশাসনিক কোন দায়িত্ব পালন করবেন না। এছাড়াও, শিক্ষকগণ ছুটির দিন ব্যাতিত প্রতিদিন সকাল ১১ থেকে প্রতিদিন ১ ঘন্টা সিনেট ভবনের মূল ফটকে অবস্থান করে এই আন্দোলনকে বেগবান করবেন। শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ওমর ফারুক সরকারের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, ইংলিশ এন্ড আদার ল্যাংগুয়েজের ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইন্সটিটিউটের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।