
নেত্রকোনায় ৯৬ ট্রান্সফরমার চুরি দিশেহারা কৃষক
শহীদুল ইসলাম রুবেল,
নেএকোণা জেলা প্রতিনিধি:
দশ উপজেলাধীন নেত্রকোনা জেলায় ফসলের মাঠ থেকে গত সাত মাসে কৃষকের ছিয়ানব্বইটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত গরীব অসহায় কৃষকরা রীতিমতো হয়ে পড়েছেন দিশেহারা। ভুক্তভোগী কৃষক ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ বলছেন রাত জেগে গ্রামবাসী পাহাড়া দিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না কিছুতেই পল্লী বিদ্যুতের এই ট্রান্সফরমার চুরি। এতে কৃষক অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন যেমন হচ্ছেন তেমনই চাষাবাদ করতে হচ্ছেন প্রতিবন্ধকতার শিকার। ধারদেনা করেও ক্ষতি পুষিয়ে উঠা দূরে থাক লোকসানের বোঝা ঘাড় থেকে নামাতে পারছেন না তারা। এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সুদৃষ্টি কামনা করছেন কৃষক। তারা বলছেন, একমাত্র পুলিশের আন্তরিক মনোভাবই হতে পারে পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের একমাত্র পথ। চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমারের পরিসংখ্যান জানতে চাইল নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মাসুম আহমেদ জানিয়েছেন, গতবছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জানুয়ারির মধ্যে ছিয়ানব্বইটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে।
নেত্রকোনায় সদর দপ্তরসহ জেলার দশ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল ও সাব-জোনাল মিলিয়ে বারোটি অফিস রয়েছে। এরমধ্য থেকে গত সাত মাসে সদর দপ্তর থেকে চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমারের সংখ্যা ১৩ টি। এছাড়াও ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে মদনে ১০ টি, মোহনগঞ্জে ১ টি, দুর্গাপুরে ১৩ টি, কেন্দুয়ায় ১৭ টি, কলমাকান্দায় ৫ টি, বারহাট্টায় ২ টি, পূর্বধলায় ২৫ টি, শ্যামগঞ্জে ১০ টি।চুরির ঘটনায় পরিসংখ্যানে এগিয়ে রয়েছে পূর্বধলা উপজেলা। এখানে এক উপজেলা থেকেই চুরি হয়েছে ৩৫ টি ট্রান্সফরমার। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কেন্দুয়া আর তৃতীয় স্থানে সদর ও দুর্গাপুর। চুরি যাওয়া এসব ট্রান্সফরমারের মূল্য ৫৯ লাখ ২৯ হাজার ৬৪১ টাকা।জিএম মাসুম আহমেদ আরও জানিয়েছেন, পল্লী বিদ্যুতের আওতায় তাদের ৬ লাখ ৩২ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। আবাসিক, শিল্প, বাণিজ্যিক ও সেচ সবমিলিয়ে মাঠ পর্যায়ে স্থাপন রয়েছে ২৯ হাজার ট্রান্সফরমার। এরমধ্যে কৃষক অর্থাৎ সেচের জন্যই রয়েছে ১৬ হাজার গ্রাহক। ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় গ্রাহকদের পাশাপাশি চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বাংলাদেশ সরকার ; মন্তব্য করেছেন তিনি।
ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় তাৎক্ষণিক পুলিশকে অবগত করার আহবান জানিয়ে নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মো. লুৎফর রহমান জানান, পুলিশ বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।