
পাঁচবিবি, জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ
জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রশিদা বেগমের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন অত্র ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সহ এলাকার জনসাধারণ।
গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার মোছাঃ রশিদা বেগম।
তবে তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক স্বেচ্ছাচারিতা, আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ মেম্বার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ তাঁর এই অনিয়মতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি নানা কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ ওয়ার্ডের মেম্বার মিজানুর রহমান জানান, দুস্থ ও নিম্নবিত্তদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ এবং টিসিবির কার্ড বিতরণে ব্যাপক আর্থিক লেনদেন করা হয়েছে। এছাড়া বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং মাতৃত্বকালীন ভাতার সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা নেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে টাকা নেওয়ার পরও ভুক্তভোগীদের কার্ড না দিয়ে বিভিন্ন ভুলভাল বুঝিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে ইউপি মেম্বার মোঃ নূর নবী এবং মিজানুর রহমানসহ একাধিক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের জনদাবি থাকা সত্ত্বেও ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কাজে হরিলুট চলছে। তাঁদের অভিযোগ, বারকান্দি ব্রিজ থেকে ধাপের হাট ব্রিজ পর্যন্ত হারাবতি নদীটি সংস্কারের জন্য বড় অংকের সরকারি বরাদ্দ এলেও বাস্তবে নদীতে কোনো কাজ না করেই সম্পূর্ণ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকা বাসি তাঁদের জীবনে এই নদী কোনোদিন সংস্কার হতে দেখেননি বলেও উল্লেখ করেন।
অনুরূপ দুর্নীতির চিত্র দেখা গেছে সরাইল গ্রামের একটি ড্রেন পাকাকরণ প্রকল্পেও। জানা গেছে, সরাইল গ্রামে বুলু তালুকদারের বাড়ি হতে মালেকের বাড়ি পর্যন্ত পাকা ড্রেন নির্মাণ সহ ৮টি ওয়ার্ডের গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য
১০ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ পায়, ১০ লক্ষ টাকার কাজেই অনিয়ম হয়েছে বলে এলাকাবাসী মনে করেন, প্যানেল চেয়ারম্যান রশিদা বেগমের নেতৃত্বে এই কাজ শুরু হলে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি স্থানীয় মেম্বার ও গ্রামবাসীর চোখে ধরা পড়ে। এ নিয়ে এলাকাবাসী তীব্র প্রতিবাদ ও অভিযোগ জানালে চাপের মুখে কাজ অসমাপ্ত রেখেই সিমেন্টসহ অন্যান্য সামগ্রী ফেরত নিয়ে চলে যায় সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া ইউনিয়নের কেওতা গ্রামের ঈদগাহ মাঠ সংস্কারেও একই ধরণের ফাঁকিবাজির অভিযোগ উঠেছে। সেখানকার ঈদগাহ মাঠ সংস্কারের জন্য সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্যানেল চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে মাত্র ২১হাজার টাকার নামমাত্র কাজ করে প্রকল্প সমাপ্ত ঘোষণার চেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় মেম্বার ও গ্রামবাসীরা এই জালিয়াতি ধরে ফেলেন এবং কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানান। স্থানীয় মেম্বারদের দাবি, রশিদা বেগম ইউনিয়ন পরিষদের অন্য কারও কথা না শুনে নিজের একক সিদ্ধান্তে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসব অনিয়ম চালাচ্ছেন, যার কারণে সাধারণ মানুষ সরকারের জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলোর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকে শুরু করে অদ্যবধি পর্যন্ত রশিদা মেম্বার বিভিন্ন সময় অনিয়ম দুর্নীতির মধ্যে আজও টিকে আছে, তিনি মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের দুর্নীতির মহারানী,
এর খুঁটির জোর কোথায়।
এলাকাবাসী প্রশাসনের প্রতি এই অনিয়ম দুর্নীতির সুস্থ তদন্ত অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানান,
এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রশিদা বেগম সাংবাদিকদের বলেন আমার কাজে কোন অনিয়ম হয়নি, আমি সঠিক কাজই করেছি,
কিছু লোকজন হিংসা করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে পাঁচবিবি উপজেলার জনবান্ধব, সুযোগ্য নির্বাহী অফিসার কাশপিয়া তাসরিন সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে কোন কথা বলতে রাজি হননি।