
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন রাজশাহী ব্যুরোঃ
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলের অসঙ্গতি দূরীকরণ, উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন এবং সঠিক ফলাফল প্রকাশের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজশাহী বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি স্মারকলিপি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম আনোয়ার হোসেনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অভিভাবক প্রতিনিধি ড. আজিবর রহমান। তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে দেশজুড়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ফলাফলের বিভিন্ন অসঙ্গতির কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী তাদের প্রাপ্য স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
তিনি বলেন, বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই এ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেজাবিন বর্ণ বলেন, “আমি খুব ভালো পরীক্ষা দিয়েছি। খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হলে আমি বৃত্তি পাব বলে আশা করি। তাই উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়নের দাবি জানাচ্ছি।”
মানববন্ধন থেকে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ফলাফল সংক্রান্ত সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, প্রয়োজন হলে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে দ্রুত সংশোধিত ফল প্রকাশ, কারিগরি বা প্রশাসনিক ত্রুটিতে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, ভবিষ্যতে আধুনিক ও স্বচ্ছ ফলাফল প্রণয়ন ব্যবস্থা চালু, গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে শিক্ষক-অভিভাবকদের অবহিত করা, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ।
অভিভাবকদের অভিযোগ, রাজশাহী শহরের ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৩৮ জন শিক্ষার্থীর বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়নি। এসব শিক্ষার্থী রাজশাহী উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছিল। কেন্দ্রটির একজন শিক্ষার্থীরও বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকায় নাম না থাকায় ফলাফল প্রস্তুতিতে বড় ধরনের কারিগরি বা প্রশাসনিক ত্রুটির আশঙ্কা করছেন তারা।
রাজশাহী উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান বলেন, “এই কেন্দ্রে ১১টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছিল। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, কেন্দ্রটির একজন শিক্ষার্থীরও নাম বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকায় নেই। বিষয়টি অত্যন্ত বিস্ময়কর এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”
একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারহানা খাতুন বলেন, “এবার আমাদের অত্যন্ত ভালো একটি ব্যাচ ছিল। একজন শিক্ষার্থীও বৃত্তি না পাওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। নিশ্চয়ই কোথাও বড় ধরনের সমস্যা হয়েছে।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে বৃত্তি পরীক্ষার জন্য নিবন্ধিত ১৩ হাজার ১৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০ হাজার ৮৩ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৯০৯ জন বৃত্তি পেয়েছে। তবে একটি কেন্দ্রের ২৩৮ শিক্ষার্থীর ফল প্রকাশ না হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত আবেদন পাওয়া যাচ্ছে এবং আবেদনগুলো প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, “এতগুলো উত্তরপত্র হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ফলাফল প্রস্তুতের সময় কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। যেহেতু এবার প্রথমবারের মতো ওএমআর পদ্ধতিতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার মূল্যায়ন করা হয়েছে, তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছি।”এই সংস্করণটি সংবাদপত্রের প্রচলিত ভাষা ও ইনভার্টেড পিরামিড কাঠামো অনুসরণ করে সম্পাদনা করা হয়েছে, যাতে শিরোনাম, লিড এবং তথ্যের উপস্থাপন আরও পেশাদার ও পাঠকবান্ধব হয়।