
রিমন হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ
টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় পানি কমতে শুরু করলেও জেলার সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও স্বাভাবিক হয়নি। ফলে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে এবং নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান শহরের কালাঘাটা, কাসেমপাড়া, মেম্বারপাড়া, ইসলামপুর, বনরূপাপাড়া, হাফেজঘোনা, বাসস্টেশন এলাকা ও নোয়াপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৩ ফুট পানি নেমে গেছে। তবে সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নৌ যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
লামা উপজেলায় মাতামুহুরী নদীর পানি সকাল ৯টায় বিপৎসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও ১২টার তথ্যানুযায়ী পানির উচ্চতা ১২.৩০ মিটারে দাঁড়িয়েছে। তবে গত রাতে ১১৭ সেন্টিমিটার এবং সকালের তিন ঘণ্টায় ৩৯ সেন্টিমিটার পানি হ্রাস পাওয়ায় পরিস্থিতি উন্নতির দিকে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কে পানি কিছুটা কমায় ছোট যানবাহন চলাচল শুরু করলেও, রাঙামাটির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন। পাহাড় ধসের কারণে বিভিন্ন উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোও অচল হয়ে পড়েছে। জেলার ৭টি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হচ্ছে, যা উদ্ধার ও যোগাযোগ কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে।
লামা-আলীকদম সড়কে শীবাতলী, রেপারপাড়া ও পশ্চিম শীলেরতুয়া এলাকায় সড়কের ওপর পানি থাকায় এখনও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সেই সঙ্গে লামা পৌরসভার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত রয়েছে। বন্যার পানি ধীরগতিতে নামছে, ফলে বাড়ছে জনদুর্ভোগ।
বন্যা ও পাহাড় ধসের আশঙ্কায় জেলার ৭টি উপজেলায় মোট ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সরকারি হিসেবে ২ হাজার ১৭৩ জন এবং বেসরকারি হিসেবে অন্তত ৭ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। শুধুমাত্র লামা উপজেলাতেই ৫৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক এস. এম. মনজুরুল হক এবং লামার ইউএনও মো. মঈন উদ্দিন জানিয়েছেন, আশ্রয় নেওয়া দুর্গতদের মাঝে শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে আগামী ১২ জুলাই (রবিবার) পর্যন্ত বান্দরবানে পর্যটকদের ভ্রমণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে এবং দুর্গতদের সহায়তায় মাঠে কাজ করে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।