
মোহনপুরে সাঁওতাল শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি না করার অভিযোগ, তদন্তে প্রশাসন
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন
রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাঁওতাল (আদিবাসী) সম্প্রদায়ের কয়েকটি শিশুকে ভর্তি না করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেশরহাট পৌরসভার রায়ঘাটি গ্রামের কয়েকজন সাঁওতাল অভিভাবক। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সব শিশুর জন্য সমানভাবে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
অভিভাবকদের অভিযোগ, সন্তানদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে একাধিকবার বিদ্যালয়ে গেলেও বিভিন্ন অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু করাই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে দাবি তাদের।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কেশরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে বর্তমানে দুইজন আদিবাসী শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। আদিবাসী হওয়ায় কাউকে ভর্তি না দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।”
এ বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, অভিযোগটি আগে তাদের নজরে আসেনি। বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, “অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ বিষয়ে কেশরহাট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার। ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো শিশুকে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা সংবিধান ও রাষ্ট্রের নীতির পরিপন্থী। এ ধরনের বৈষম্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে সংশ্লিষ্ট শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো শিশুই যেন ধর্ম, বর্ণ, জাতিগত পরিচয় বা সামাজিক অবস্থানের কারণে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি শিশুর বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে শিক্ষাগ্রহণের সমান অধিকার রয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং সব শিশুর জন্য বৈষম্যহীন শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।