1. [email protected] : dailynayakontho :
  2. [email protected] : nayakantho3941 :
  3. [email protected] : nayakontho :
  4. [email protected] : unikbd :
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০১:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
প্রাইভেটে যাওয়ার পথে নিখোঁজ শিশু, কয়েক ঘণ্টা পর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার; গ্রেপ্তার ৩। কাশিয়াডাঙ্গা থানার তৎপরতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিখোঁজ কিশোরী উদ্ধার, পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন। রাজবাড়ীতে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার ফেসবুক ও মেসেঞ্জারের হঠাৎ সার্ভার ডাউন, ভোগান্তিতে ব্যবহারকারীরা ‘বাজেট আসে, বাজেট যায়, আমাগো কিচ্ছু হয় না’ পাঁচবিবিতে ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী মেলা। সাংবাদিক পরিচয়ে অটোচালকের ২৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ, প্রতারণা মামলার আসামি মিমুল গ্রেফতার বাগমারায় হারানো টিয়া পাখি নিয়ে চাঞ্চল্য,ফিরে পেতে মালিকের অভিযোগ। বাবার সঙ্গে গাঁজা নিতে এসে ১৪ বছরের কিশোরী আটক ইতিহাস গড়ল ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ, ভাঙল ১২ বছরের রেকর্ড

প্রাইভেটে যাওয়ার পথে নিখোঁজ শিশু, কয়েক ঘণ্টা পর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার; গ্রেপ্তার ৩।

  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
  • ১ বার পঠিত

 

 

রাজশাহী ব্যুরোঃ

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর এলাকার সাহেবপাড়া মহল্লায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হওয়া সাত বছরের এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিহত রাকা স্থানীয় একটি নূরানী মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৫টার দিকে সে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে শিক্ষিকার কাছে না পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাকার ফুফু শিক্ষিকার কাছে খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারেন, সেদিন রাকা পড়তে যায়নি। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পাননি। খবর পেয়ে রাকার বাবা রায়হান, যিনি স্থানীয় একটি গ্যারেজে মোটর মেকানিক হিসেবে কর্মরত, বাড়িতে ফিরে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং পরে আদমদীঘি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান।

এদিকে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজন যুবক প্রতিবেশী আমজাদ হোসেনের আচরণে সন্দেহজনক কিছু বিষয় লক্ষ্য করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, আমজাদ দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবন ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। ঋণগ্রস্ত থাকা সত্ত্বেও ঘটনার দিন তিনি বিপুল পরিমাণ বাজারসদাই ও স্ত্রীর জন্য নতুন কাপড় কিনে আনেন বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।

সন্দেহের ভিত্তিতে স্থানীয়রা আমজাদের বাড়িতে তল্লাশি চালালে একটি কক্ষে ব্রয়লার মুরগির খাঁচার পাশে রাখা পোল্ট্রি ফিডের বস্তা দেখতে পান। বস্তার মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। কাপড় সরিয়ে ভেতরে শিশু রাকার মরদেহ দেখতে পেয়ে তারা পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুজ্জামান মিয়া, সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক খন্দকার ফরিদ হোসেন এবং পরে আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আসিফ হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

ঘটনার পর পুলিশ আমজাদ হোসেন (৪২), তার স্ত্রী বণ্যা বেগম (৩০) এবং প্রতিবেশী আব্দুল কাদেরের ছেলে বাবু (৪০)-কে গ্রেপ্তার করে। তবে গ্রেপ্তারের সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের ওপর হামলা চালায়। এতে তারা আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। এ সময় সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির একটি টহল ভ্যানের সামনের গ্লাসও ভাঙচুর করা হয়।

পরে স্থানীয় সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় রাত ১টার দিকে গ্রেপ্তারকৃতদের নিরাপদে থানায় নেওয়া হয়। বর্তমানে জনতার হামলায় আহত আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রী নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের দুই শিশু সন্তানকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আসিফ হোসেন বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD