
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ী:
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের একটি আবাসন এলাকায় মুদির দোকানে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে দোকান মালিকসহ অন্তত ২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
ভুক্তভোগী মোঃ হাফিজুর রহমান (৩৫), পিতা-হারুন বেপারী, দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর ধরে বহরপুর আবাসন এলাকায় মুদির দোকান পরিচালনা করে আসছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (০১ মে ২০২৬) রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ১২-১৩ জনের একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র ৩টি মোটরসাইকেল ও একটি অটোভ্যানে করে এসে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত অবস্থায় বহরপুর আবাসন এলাকায় অবস্থিত ওই দোকানে অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় তারা দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু করে।
হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে হাফিজুর রহমানকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে কর্মচারী শহিদুল ইসলাম (৩০)-কে লোহার হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। একই সময় দোকান মালিকের মাথায় শাবল দিয়ে আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন এবং পরে তার মাথায় ৩টি সেলাই দেওয়া হয়।
হামলাকারীরা দোকানের ক্যাশবাক্স ভেঙে নগদ আনুমানিক ৭০-৮০ হাজার টাকা লুট করে নেয়। এছাড়া প্রায় ১০ হাজার টাকার সিগারেট, ৫ হাজার টাকার কোমল পানীয় এবং আরও প্রায় ১৫ হাজার টাকার বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, যেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে আবু হাসান (২০), পিতা-জলিল মন্ডল (৫২)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি থানার ওসি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।