
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব তারাপাশায় অবস্থিত কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি আজ চরম অবহেলার চিত্র বহন করছে। বিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠটি বছরের পর বছর ধরে পানিতে ডুবে রয়েছে। মাঠে খেলাধুলার আনন্দমুখর পরিবেশ থাকার কথা থাকলেও সেখানে এখন জমে থাকা পানিতে চলছে মাছ ধরা৷মাঠ হারিয়ে শিশুরা হতাশ৷
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা প্রতিদিন খেলার জন্য মাঠে যায়, কিন্তু পানির কারণে কোনো খেলাধুলা করা যায় না। একজন ক্ষুদে শিক্ষার্থী বলে—
“আমরা ফুটবল খেলতে চাই, দৌড়াতে চাই, কিন্তু মাঠ সব সময় পানিতে ভরা থাকে। খেলা হয় না।”
এই অবস্থায় শিশুরা শুধু শারীরিক অনুশীলন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে না, মানসিকভাবেও চাপে পড়ছে।
এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, মাঠে কোনো ধরনের সংস্কার কাজ বা মাটি ভরাট হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠ জলাশয়ে পরিণত হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের সন্তানদের খেলার কোনো পরিবেশ নেই। অথচ প্রশাসন সমস্যা সমাধানে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস দাবি করছে, তারা লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু এলাকাবাসীর প্রশ্ন—এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মৌখিকভাবে জানানোর পরও কেন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি? সচেতন মহলের মতে, এটি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতারই প্রমাণ।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, খেলার মাঠ শিশুদের জন্য শুধু বিনোদনের জায়গা নয়, এটি তাদের শারীরিক বিকাশ ও মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হলে শিশুরা আত্মবিশ্বাস হারায়, সৃজনশীলতাও বাধাগ্রস্ত হয়।
অভিভাবক ও এলাকাবাসী মাঠ সংস্কার, মাটি ভরাট ও স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়।
এলাকাবাসী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “অচিরেই মাঠ সংস্কার না হলে আমরা প্রতিবাদে রাস্তায় নামতে বাধ্য হবো।”
একসময়ের খেলাধুলার প্রাণকেন্দ্র কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ আজ পানিবন্দি। শিশুদের হাসি-কোলাহল যেখানে শোনা যাওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন কেবল মাছ ধরার দৃশ্য। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্ষতির দায়ভার কারা নেবে—এ প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকাবাসীর মনে।