1. [email protected] : dailynayakontho :
  2. [email protected] : nayakantho3941 :
  3. [email protected] : nayakontho :
  4. [email protected] : unikbd :
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
কাশিয়াডাঙ্গা থানার তৎপরতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিখোঁজ কিশোরী উদ্ধার, পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন। রাজবাড়ীতে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার ফেসবুক ও মেসেঞ্জারের হঠাৎ সার্ভার ডাউন, ভোগান্তিতে ব্যবহারকারীরা ‘বাজেট আসে, বাজেট যায়, আমাগো কিচ্ছু হয় না’ পাঁচবিবিতে ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী মেলা। সাংবাদিক পরিচয়ে অটোচালকের ২৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ, প্রতারণা মামলার আসামি মিমুল গ্রেফতার বাগমারায় হারানো টিয়া পাখি নিয়ে চাঞ্চল্য,ফিরে পেতে মালিকের অভিযোগ। বাবার সঙ্গে গাঁজা নিতে এসে ১৪ বছরের কিশোরী আটক ইতিহাস গড়ল ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ, ভাঙল ১২ বছরের রেকর্ড মেহেরপুরে যুবদলের আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ।

সম্ভাবনার সেতু ভেঙে স্বপ্নভঙ্গ:চন্দনানদীর মাচাল ঘাটে ব্রিজের দাবিতে এলাকাবাসীর আহাজারি

  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫
  • ২৮৯ বার পঠিত

 

ইমদাদুল হক রানাঃ

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দী উপজেলার নবাবপুর ও ইসলামপুর ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জীবন আজও আটকে আছে একটি সেতুর অভাবে। বহরপুর–রামদিয়া সড়কের কোলঘেঁষা চন্দনা নদীর নারায়ণপুর-মাচাল ঘাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী ব্রিজের দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী।

২০০৬ সালে স্থানীয় জনগণের উদ্যোগে ও রমজান আলী মণ্ডলের নেতৃত্বে বাঁশের মাচাল দিয়ে তৈরি হয়েছিল অস্থায়ী সেতু। তখন থেকেই স্থানটির নাম হয় ‘মাচাল ঘাট’। পরে ২০২৩ সালে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে নতুন করে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু চলতি বছরের আগস্ট মাসে প্রবল স্রোত ও ভেসে আসা কচুরিপানার চাপে সেতুটি ভেঙে পড়ে। ফলে এখানে এলাকাবাসীর পারাপারের কোনো ব্যবস্থা নেই।
এই সেতুটি ছিল দুই ইউনিয়নের মানুষের একমাত্র ভরসা। বিশেষ করে নবাবপুরের শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থী প্রতিদিন দেশসেরা স্কুল, স্বাবলম্বী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ৮ শতাধিক শিক্ষার্থী যাতায়াত করত এই সেতু পার হয়ে। এখন সেই শিক্ষার্থীদের দুই-তিন কিলোমিটার ঘুরে স্কুলে যেতে হচ্ছে, যা সময়, অর্থ এবং শারীরিক কষ্টের কারণ হচ্ছে।

গাংচর পদমদীর কৃষক জালাল শেখ বলেন, “ফসল বাজারে নিতে গেলে অনেক দূর ঘুরতে হয়। সময়মতো বাজারে পৌঁছানো যায় না, দামও পাওয়া যায় না। একটা ব্রিজ আমাদের চাষাবাদকে বাঁচাতে পারত।”
২০০৬ সালে বাঁশের সেতু নির্মাণ কারী ৭৫ বছর বয়েসী রমজান মন্ডল বলেন, “এখানে প্রথমে বাঁশের সাকো ছিলো, বাঁশের সাকো পার হতে গিয়ে স্কুলের ছোট ছেলে মেয়ের বইখাতা নিয়ে পরে যেত, স্কুলে যাওয় হতো না তাই দেখে আমার কষ্ট হতো উপায় হিসাবে, আমি এলাকা বাসীদের সঙ্গে নিয়ে ২০০৬ সালে বাশের মাচাল তৈরি করি, প্রতিবছরই মেরামত করতে হয়। এখন সে তোকে ভেঙ্গে গেছে। আমার বয়স হয়ে গেছে। আমার স্বপ্ন ছিলো সরকার হয়তো এখানে একটি পাকাসেতু নির্মাণ করবে। আমার এখন বয়স হয়েছে কখন যেন উপরে চলে যাবো মরার আগে হয়তো এখানে পাকাসেতু দেখে পারবো না!”
স্থানীয় শিক্ষার্থী সাথী আক্তার জানায়, “আগে সহজেই স্কুলে যেতাম। এখন দুই কিলোমিটার বেশি ঘুরতে হয়। বই-খাতা নিয়ে হাঁটতে খুব কষ্ট হয়।”
গৃহবধূ আনিকা খাতুন বলেন, “অসুস্থ হলে বিপদে পড়তে হয়। ওপারে হাসপাতালে যেতে নদীর ঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।”
প্রতিটি নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নবাবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাদশাহ আলমগীর বলেন, “মাচাল ঘাটে একটি সেতু হলে নবাবপুর ও ইসলামপুর ইউনিয়নের মানুষ কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় উপকৃত হবে। জেলা সদর ও মীর মশাররফ হোসেন কমপ্লেক্সের সাথেও সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মোস্তাফিজুর রহমান (ইউএনও) বলেন: “চন্দনা নদীর মাচাল ঘাটে সেতু নির্মাণের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এখানে একটি বেইলি ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা প্রস্তুত করে, যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তা পাঠানো হবে। জনস্বার্থে আমরা চাই দ্রুত সমাধান হোক। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।”
স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে এখানে একটি বেইলি ব্রিজ অথবা স্থায়ী সেতু নির্মাণ করতে হবে, যাতে জনদুর্ভোগ কমে আসে এবং এলাকার শিক্ষা, অর্থনীতি ও চিকিৎসা সেবা স্বাভাবিক হয়।

✅ উপজেলা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ, জনগুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক, যাতে দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটে এবং মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD