
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শহিদী মসজিদের সামনে ও পাশের রাস্তাগুলো এখন যেন অবৈধ দখলদারদের দাপটে হাঁসফাঁস করছে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের নামাজ আদায়ে ব্যাঘাত, মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট হওয়া এবং স্থায়ী যানজট—এ যেন এক ভয়াবহ চিত্র প্রতিদিনের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মসজিদের সামনের রাস্তা ও সংলগ্ন এলাকাজুড়ে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে অটো রিকশা স্ট্যান্ড ও ভ্রাম্যমাণ দোকান। প্রতিদিন নীলগঞ্জ ও তাড়াইল রোডে চলাচল করা ১০০ থেকে ২০০টিরও বেশি ব্যাটারিচালিত অটো রিকশা এখান থেকেই যাত্রা শুরু করে। অথচ এটি কোনো নির্ধারিত স্ট্যান্ড নয়।
অভিযোগ রয়েছে, এসব অটো চালকদের কাছ থেকে দৈনিক ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। কে বা কারা এই চাঁদা নেয়—তা বলতে অনিচ্ছুক চালকরা। তবে স্থানীয়রা সরাসরি অভিযোগ করছেন, পুলিশ প্রশাসন সব কিছু জানলেও রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বরং সার্জেন্ট অফিসারের উপস্থিতিতেই দিনের পর দিন চলছে এই অনিয়ম।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ঠিক মসজিদের সামনেই কিছু ব্যক্তি অবৈধভাবে দোকান বসিয়েছে। এতে মুসল্লিদের চলাচলে যেমন অসুবিধা হচ্ছে, তেমনি মসজিদের পবিত্র পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা এই অবস্থার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এই পরিস্থিতি নিয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ আসলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন, বছরের পর বছর এমন অনিয়ম চললেও কেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি? শহরের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানে এভাবে দখল ও অনিয়ম চলতে থাকলে তা শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নয়, বরং সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের উপরও আঘাত বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এখনই যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে কিশোরগঞ্জ শহরের এই ঐতিহ্যবাহী স্থানটি তার মর্যাদা হারাবে—এমন আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।