
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জ শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা গৌরাঙ্গবাজার ব্রিজ। ব্রিজটি শহরের প্রধান প্রবেশদ্বার এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পয়েন্ট। প্রতিদিন এই ব্রিজ ব্যবহার করে শহর ও বিভিন্ন উপজেলার হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। অথচ এই ব্রিজের দুই পাশে নির্মিত ফুটপাত আজ জনসাধারণের চলাচলের জন্য আর ব্যবহারযোগ্য নেই।
ব্রিজের উপর নির্মিত ফুটপাতকে দখল করে গড়ে উঠেছে সারি সারি দোকান। যার ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হচ্ছে চলাচল করতে রিকশা-অটোরিকশার গা ঘেঁষে, যা একদিকে যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, অন্যদিকে সময়সাপেক্ষও। যেখানে পাঁচ মিনিটেই হেঁটে পার হওয়া যেত, এখন সময় লাগছে ১০-১৫ মিনিট কিংবা তারও বেশি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই দোকানগুলো মূলত ‘হকারদের’ নামে বসানো হলেও, এর পেছনে রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। হকারদের কাছ থেকে দৈনিক বা মাসিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়।
হকারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদেরকে ‘হকার সমিতি’র নামে টাকা দিতে হয়। তবে বর্তমানে এই চাঁদা আদায়ের নিয়ন্ত্রণ ‘হাত বদল’ হয়ে গেছে এবং কারা এই টাকা নিচ্ছে, তা নিয়ে রয়েছে নানা গুঞ্জন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আগে কিছু বৈধ দোকান ভেঙে জনসাধারণের চলাচলের জন্য রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু পরে সেই জায়গাতেই আবার বসানো হয়েছে হকারদের দোকান। ফলে পুরনো সমস্যা আবার ফিরে এসেছে।
জনগণের প্রশ্ন: প্রশাসন কি অন্ধ হয়ে গেছে?
এই অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন—কিশোরগঞ্জ পৌরসভা ও প্রশাসন কি বিষয়টি দেখেও কিছু করছে না? একটি সরকারি ব্রিজে প্রতিদিন দোকান বসিয়ে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে, অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ শুধু বাড়তেই থাকবে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষ এবং অসুস্থ রোগীদের পক্ষে এই ভিড় ঠেলে চলাফেরা করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
দাবি: দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক প্রশাসন
এখনই যদি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে একসময় এই জায়গা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়বে। কিশোরগঞ্জবাসী ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা মানুষদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে ব্রিজের ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।