1. [email protected] : dailynayakontho :
  2. [email protected] : nayakantho3941 :
  3. [email protected] : nayakontho :
  4. [email protected] : unikbd :
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তারা পিছিয়ে আছেন কেন

  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০২৫
  • ৪১৬ বার পঠিত

মো শারদী মোল্লা নয়া কন্ঠেঃ

বিশ্বজুড়ে নারী উদ্যোক্তাদের সাফল্য এবং বাংলাদেশের চিত্র

বিশ্বব্যাপী নারীরা এখন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে এগিয়ে আসছেন, যা নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সম্প্রতি প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে গ্লোবাল এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ মনিটরের (জিইএম) তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে, বর্তমান সময়ে বিশ্বের ৬৫ কোটির বেশি নারী উদ্যোক্তা রয়েছেন। তবে, বাংলাদেশে নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পথ এখনও অনেক কষ্টসাধ্য।

গ্লোবাল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পুরুষ উদ্যোক্তার সংখ্যা ৭৭ কোটি হলেও নারীদের উদ্যোক্তা সংখ্যা প্রায় এক তৃতীয়াংশে পৌঁছেছে। বিশেষ করে, নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই তাদের যাত্রার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছেন, যা ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নির্দেশ করছে। তবে, বাংলাদেশে এই সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তার সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ, যাদের মধ্যে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা মাত্র ৬ শতাংশের নিচে।

তবে আশার কথা হলো, নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন উদ্যোক্তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশ নারী। নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। উদ্যোক্তা হিসেবে নারীরা নিজেরাই স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন, যা পরিবারের আর্থিক উন্নতির পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়নেও ভূমিকা রাখছে।

তবে নারীদের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পেছনে বেশ কিছু সামাজিক ও আর্থিক বাধা রয়েছে। পারিবারিক কাঠামো, সামাজিক বাধা, ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে অসমতা, এবং সহিংসতা ও নিপীড়নের শঙ্কা নারী উদ্যোক্তাদের পথচলায় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া, দেশে নারীদের শিক্ষাগত ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার কারণেও এই সমস্যাগুলি আরও প্রকট হয়ে উঠছে। মাধ্যমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণকারী মেয়েশিক্ষার্থীর হার ৫৫ শতাংশ, যা উচ্চমাধ্যমিকে এসে ৫০ শতাংশে চলে আসে, এবং উচ্চশিক্ষায় তা আরও কমে যায়।

এ ছাড়া, দারিদ্র্য, বিয়ে, এবং অন্যান্য সামাজিক প্রতিবন্ধকতাও নারীদের শিক্ষায় পিছিয়ে রাখতে সহায়তা করে, যা পরবর্তী সময়ে কর্মসংস্থান বা উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগকে সংকুচিত করে।

বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্চ শিক্ষার পর কর্মসংস্থানের ব্যাপারে হতাশা ও শঙ্কা স্পষ্ট। বিশেষত, বিয়ে হওয়া নারী শিক্ষার্থীরা চাকরির বাজারে পুরুষদের তুলনায় পিছিয়ে পড়েন। পরিবারের সহায়তা না থাকায় অনেকেই উদ্যোক্তা হতে সাহস পান না।

তবে, বাংলাদেশের উন্নত ভবিষ্যতের জন্য রাষ্ট্রের উদ্যোগের প্রয়োজন। নারীদের উদ্যোক্তা হতে সহায়তা করার জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা, প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এসব উদ্যোগকে প্রণোদনা দেয়, তাহলে উচ্চশিক্ষিত নারীরা আরও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ভূমিকা রাখতে পারবেন।

প্রশিক্ষণ, ঋণ সুবিধা, এবং উদ্যোগের স্ব–মালিকানা নারীদের উদ্যোক্তা হওয়ার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিশেষত, তথ্য প্রযুক্তি, গৃহনির্মাণ, শিল্প কারখানা, এবং সেবা খাতের মতো অন্যান্য ক্ষেত্রেও নারীরা উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হতে পারেন। নারীর উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পথ আরও সুগম করা গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে।

এখন সময় এসেছে, নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার, ব্যাংক, ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ প্রয়াসে এই সুরাহা বের করা উচিত।

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD