1. [email protected] : dailynayakontho :
  2. [email protected] : nayakantho3941 :
  3. [email protected] : nayakontho :
  4. [email protected] : unikbd :
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কাশিয়াডাঙ্গা থানার তৎপরতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিখোঁজ কিশোরী উদ্ধার, পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন। রাজবাড়ীতে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার ফেসবুক ও মেসেঞ্জারের হঠাৎ সার্ভার ডাউন, ভোগান্তিতে ব্যবহারকারীরা ‘বাজেট আসে, বাজেট যায়, আমাগো কিচ্ছু হয় না’ পাঁচবিবিতে ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী মেলা। সাংবাদিক পরিচয়ে অটোচালকের ২৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ, প্রতারণা মামলার আসামি মিমুল গ্রেফতার বাগমারায় হারানো টিয়া পাখি নিয়ে চাঞ্চল্য,ফিরে পেতে মালিকের অভিযোগ। বাবার সঙ্গে গাঁজা নিতে এসে ১৪ বছরের কিশোরী আটক ইতিহাস গড়ল ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ, ভাঙল ১২ বছরের রেকর্ড মেহেরপুরে যুবদলের আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ।

রাস্তা নয়, যেন ধানক্ষেত রাজবাড়ী ধানের চারা রোপণ করে এলাকাবাসীর হৃদয়বিদারক প্রতিবাদ

  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৩১ বার পঠিত

 

ইমদাদুল হক রানা রাজবাড়ী  প্রতিনিধিঃ

রাস্তা, নাকি ধানক্ষেত? উন্নয়নের নামে বছরের পর বছর ধরে অবহেলা, দুর্ভোগ আর প্রতিশ্রুতির বঞ্চনার মাঝে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দী উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের গণপত্যা (হড়াই ব্রিজ) থেকে চন্দনী হাইওয়ে সংযোগ সড়ক, যেন সেই প্রশ্নের জবাব নিজেই দিয়ে দিচ্ছে। হড়াই নদীর পাড়ঘেঁষা এই সড়ক এখন রূপ নিয়েছে কাদার সাগরে। হাঁটু সমান কাদায় দাঁড়িয়ে হতাশ আর ক্ষুব্ধ মানুষরা সোমবার (২৬ জুন) ব্যতিক্রমী প্রতিবাদের ভাষা বেছে নিয়েছেন — সড়কের ওপর ধানের চারা রোপণ করে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আর কত অবহেলা?

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, “আমরা কি শুধু ভোট দেওয়ার জন্য জন্মেছি?”

৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ সৈয়দ আলী সর্দার অশ্রুসজল চোখে বলেন,
“এই বয়সে এসে আর কোনো স্বপ্ন দেখি না। শুধু ভাবি, মৃত্যুর আগে যদি একটা পাকা রাস্তা দেখে যেতে পারতাম! কত নেতা-মন্ত্রী আসলো, আশ্বাস দিলো। আমরা শুধু ভোট দেই, আর পরের পাঁচ বছর কাদা আর কষ্ট কাঁধে নিয়ে বাঁচি। আজ ধানের চারা লাগিয়ে বলছি, যদি ধান হয় — অন্তত সেইটুকু লাভ।”

এক সময়ের নদীপথ, আজ দুর্ভোগের সড়কপথ স্থানীয় প্রবীণরা জানান, একসময় জীবন-জীবিকার মূল ভরসা ছিল হড়াই নদী। বড় বড় নৌকায় ব্যবসা-বাণিজ্য চলত। নদী শুকিয়ে গেছে, ভরসা এখন এই সড়ক। অথচ বছরের পর বছর কাদা-পানিতে ডুবে থাকা সড়কটির দিকে যেন কেউ তাকায় না।

প্রায় ৭-৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৩০ ফুট চওড়া এই সড়কের গণপত্যা অংশে মাত্র ১ কিলোমিটার পাকা। বাকি অংশ কর্দমাক্ত, চলাচলের অনুপযোগী। সড়কটির ৭০% বালিয়াকান্দী উপজেলায়, বাকি অংশ কালুখালী ও রাজবাড়ী সদর উপজেলায় অবস্থিত তিন উপজেলার সিমান্তবর্তী এলাকা । বর্ষা মৌসুমে পুরো সড়ক কাদায় তলিয়ে যায়। রোগীকে হাসপাতালে নিতে হয় বাঁশের মাচা বা কাঁধে তুলে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিদিন বই-খাতা হাতে পাড়ি দেয় কাদামাখা পথ। অনেকে কাদায় পিছলে পড়ে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয়। কৃষকদের ক্ষেতের ফসল বাজারে পৌঁছায় না কাদার কারণে।

এই সড়ক দিয়েই যাতায়াত করে গণপত্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আড়াবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রাজধরপুর সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কৈডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোড়পালান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চন্দনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কৈডাঙ্গা মাদ্রাসাসহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

এছাড়াও রয়েছে ভরত কুমার দাসের ডেইরি ফার্মসহ চারটি ডেইরি ফার্ম, গাজী পোল্ট্রি ফার্মসহ ৮-১০টি পোল্ট্রি ফার্ম এবং নাসিরউদ্দিনের একটি মৎস্য হ্যাচারি। মালামাল পরিবহন নিয়েও ভোগান্তি পোহাতে হয় ব্যবসায়ীদের।

“আমরা যেন শুধু ভোটের যন্ত্র”

ওসমান শেখ, মোকছেদ আলী মিয়া, নিরোজিত দাশ, কালাম মোল্লা, ছালাম মোল্লা জানান,
“ভোটের সময় নেতারা আসে, প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি দেয়, চলে যায় — থেকে যায় শুধু বঞ্চনা। আমরা যেন শুধু ভোটের যন্ত্র, উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া আমাদের ভাগ্যে নেই।”

ইসলামপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মুজিবুর রহমান বলেন,
“আমরা বহুবার বলেছি, আবেদন করেছি। ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রশাসন, এমপি-মন্ত্রী সবাই এসে দেখে গেছে। প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো — কাদা আর দুর্ভোগই আমাদের নিয়তি হয়ে গেছে।”

প্রশাসনের বক্তব্য

বালিয়াকান্দী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,
“জনদুর্ভোগ আমরা সবসময় গুরুত্ব দিয়ে দেখি। বিষয়টি অবগত হলাম। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ হোসেন জানান,
“রাস্তাটি আইডিভুক্ত করা হয়েছে। আপাতত পাকাকরণের কোনো সম্ভাবনা নেই। নতুন প্রকল্প হলে তখন পাকাকরণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।”

শেষ কথায় এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও হুঁশিয়ারি

প্রতিবাদকারীরা বলেন,
“আমরা কেউ রাস্তার ওপর ধান লাগাতে চাইনি। কিন্তু আর কতদিন কাদা-মাটিতে ডুবে থাকবো? রাস্তা ঠিক না হলে আমরা এই সড়কেই ধান ফলাবো। অন্তত কিছু ফসল হবে, সন্তানদের খাওয়ার ব্যবস্থা হবে। ভোটের সময় যেন আর কেউ আশ্বাস নিয়ে না আসে — আমরা চাই কাজ, চাই চলার মতো রাস্তা। অবিলম্বে সড়ক পাকাকরণের উদ্যোগ না নিলে আরও বড় আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো”

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD