
ভিডিওকলে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার মাঝেই চরম সিদ্ধান্ত: গাইবান্ধায় পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার।
বিশেষ প্রতিনিধি :
গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের সরকারি বাসভবনের ব্যারাক থেকে হাবিবুর রহমান (৩৩) নামে এক পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্ত্রীর সঙ্গে ভিডিওকলে কথা বলার সময় পারিবারিক কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শহরের পুলিশ সুপারের সরকারি বাসভবনের ব্যারাকের একটি ওয়াশরুম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম।
নিহত হাবিবুর রহমান নীলফামারী সদর উপজেলার সরদারপাড়া এলাকার মন্টু মিয়ার ছেলে। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের নায়েক পদে কর্মরত ছিলেন। তার একটি ছোট ছেলে সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১২ আগস্ট ঢাকা থেকে বদলি হয়ে গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের বাংলো গার্ডে যোগদান করেন হাবিবুর রহমান। তিনি অন্য সদস্যদের সঙ্গে ব্যারাকে অবস্থান করছিলেন।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ব্যারাকের ওয়াশরুমের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ দেখতে পান সহকর্মীরা। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে গার্ড কমান্ডার সোহেল মিয়া কয়েকবার তাকে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে অন্য সদস্যদের নিয়ে দরজায় ধাক্কা দিলে ভেতরে হাবিবুর রহমানকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির হোসেনের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল ইসলাম জানান, ব্যারাকে থাকা পুলিশ সদস্য ও গার্ড কমান্ডারের ভাষ্যমতে, দুপুরে হাবিবুর রহমান তার স্ত্রীর সঙ্গে ভিডিওকলে কথা বলার সময় পারিবারিক বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি ওয়াশরুমে প্রবেশ করেন এবং ভিডিওকল চালু থাকা অবস্থাতেই আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”
এ ঘটনায় পুলিশ বিভাগের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।