
রাজশাহীতে আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সম্মেলন
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন
রাজশাহী ব্যুরো
বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন রাজশাহী জেলা শাখার উদ্যোগে ‘ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলন-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট এলাকার হোটেল ওয়ারিশানের হলরুমে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষক প্রতিনিধি অংশ নেন।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। এ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের বর্তমান পরিচয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও উল্লেখ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন রাজশাহী জেলার প্রধান উপদেষ্টা মোঃ আব্দুল খালেক, সভাপতি ড. মোঃ ওবায়দুল্লাহ, কেশরহাট পৌরসভা শাখার সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ, রাজশাহী জেলা কলেজ শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ রাজশাহী জেলার সভাপতি মাওলানা ইসমাইল আলম আল হাসান, বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মাজহারুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার ড. এনামুল হক এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক (অর্থোপেডিক সার্জারি) ডা. এ. এস. এম. আব্দুল্লাহসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে বক্তারা শিক্ষকদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, শিক্ষকরা সমাজের দর্পণ এবং শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষিত ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন হয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ইতিবাচক চিন্তাধারা বিকাশে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, সমাজ থেকে অপরাধ দূর করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং একটি সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য শিক্ষকদের সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে।
সম্মেলন থেকে বেসরকারি শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে-স্কেলের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ ভাতা ছয় মাসের মধ্যে প্রদান, ১০০ শতাংশ উৎসব ভাতা চালু এবং বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ।
বক্তারা এসব দাবি বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পরে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সম্মেলনের কার্যক্রম শেষ হয়।