
ম্যাক্স হাসপাতালের শেয়ার: আরও ১৬ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা
রাজশাহী ব্যুরো
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে শেয়ার মালিকানা এবং সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ৬ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের তিন দিনের মাথায় আরও ১৬ জনের বিরুদ্ধে একই ব্যবস্থা নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। নতুন তালিকায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যাপকসহ একাধিক চিকিৎসক এবং জাতীয় নাক-কান-গলা ইনস্টিটিউটের একজন চিকিৎসক রয়েছেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, অভিযুক্তদের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী বিভাগীয় মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্বাস্থ্যসচিব মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষর রয়েছে। প্রজ্ঞাপন পাওয়ার ১০ কর্মদিবসের মধ্যে অভিযুক্তদের লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত চিকিৎসকেরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের সামনে অবস্থিত ম্যাক্স হাসপাতালের শেয়ারহোল্ডার। সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে ব্যবসায় জড়িত থাকা এবং সরকারি হাসপাতালের রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে।
নতুন করে অভিযুক্তদের মধ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাতজন চিকিৎসক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের পাঁচজন চিকিৎসক, রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের একজন, নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন, ঢাকা ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির একজন এবং জাতীয় নাক-কান-গলা ইনস্টিটিউটের একজন চিকিৎসক রয়েছেন। এছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের একজন মেডিকেল অফিসারের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।
এর আগে গত ৫ জুলাই একই অভিযোগে আরও ছয়জন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। একই দিনে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ এবং অফিস সময়ে বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত থাকার অভিযোগে আরও দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেন চাকরি থেকে বরখাস্ত বা উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কারণ দর্শাতে হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসককে বদলি করা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে বেসরকারি হাসপাতালে সরকারি চিকিৎসকদের শেয়ার মালিকানার বিষয়টি সামনে আসে। অভিযোগের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিলে তার ভিত্তিতেই ধারাবাহিকভাবে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।