1. [email protected] : dailynayakontho :
  2. [email protected] : nayakantho3941 :
  3. [email protected] : nayakontho :
  4. [email protected] : unikbd :
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:২০ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামের নতুন মাছ বাজারে অস্থিরতা: চাঁদাবাজির চাপে কমছে ট্রলার, শঙ্কায় ব্যবসায়ী।

  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬
  • ১৬ বার পঠিত
ছবি গুগল থেকে সংগ্রহীত
ছবি সংগ্রহীত

নয়া কণ্ঠ ডেস্কঃ

 

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরঘেঁষা চাক্তাই এলাকার নতুন মাছ বাজার—দেশের একমাত্র মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। প্রতিদিন গভীর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত এখানে জমে ওঠে দেশের অন্যতম বৃহৎ সামুদ্রিক মাছের বেচাকেনা। শত শত ট্রলার ও নৌকায় ভেসে আসে হাজার হাজার টন মাছ। মৌসুমে প্রতিদিন শত কোটি টাকার লেনদেন হয় বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয় বিপুল পরিমাণ মাছ।

 

কিন্তু কয়েক মাস ধরে এই ঐতিহ্যবাহী বাজারে নেমে এসেছে অস্বস্তির ছায়া। ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও মৎস্যজীবীদের অভিযোগ—চাঁদাবাজি, দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বাজারটির স্বাভাবিক পরিবেশ ভেঙে পড়ছে। ফলে অনেক ট্রলার ও মাছ ব্যবসায়ী এখন এই বাজার এড়িয়ে চলছেন।

 

বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সোলাইমান অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি সংঘবদ্ধ চক্র বাজারকেন্দ্রিক নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। মাছভর্তি নৌকা থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায়, মাছ ছিনিয়ে নেওয়া, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি এবং লিজ নেওয়া জায়গায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মতো অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

 

তার ভাষ্য, “অনেক ব্যবসায়ী এখন আতঙ্কে আছেন। থানায় অভিযোগ করার পরও পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন হচ্ছে না।”

 

সমবায় সমিতির মহাব্যবস্থাপক আশীষ কুমার বড়ুয়া বলেন, দেশের অন্যতম লাভজনক সমবায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই বাজারের দীর্ঘদিনের সুনাম রয়েছে। কিন্তু চাঁদাবাজির কারণে বাজারের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, মাছ লোড-আনলোডে আসা ট্রাক ও নৌযান থেকেও বিভিন্ন অজুহাতে টাকা আদায় করা হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে।

 

সোনালী যান্ত্রিক মৎস্য শিল্প সমবায় সমিতির সভাপতি হাজী মোহাম্মদ আলী বলেন, বড় নৌকা বা ট্রাক এলেই অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। ফলে অনেক ব্যবসায়ী বিকল্প বাজারের দিকে ঝুঁকছেন। দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে বাজারটির অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

 

শুধু ব্যবসায়ী নন, শ্রমিকরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বাজারে শ্রমিক সরবরাহকারী মুরাদ মাঝির দাবি, শ্রমিকদের কাছ থেকেও জোর করে টাকা ও মাছ নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এতে শ্রমজীবীদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

 

২০১৫ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিজ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে বর্তমানে রয়েছে বৃহৎ পাইকারি মাছের বাজার, প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, বরফকল, মৎস্য আড়ৎ ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক মাছের বাজার তার ঐতিহ্য ও ব্যবসায়িক গুরুত্ব হারাতে পারে।

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD